প্রকৃতিপ্রেমীদের নজর লালসোনাইলে
নজরুল মৃধা, রংপুর
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে লালসোনাইল ফুল। রক্তলালে হালকা গোলাপি রঙের আভা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে ডাকছে। যা দেখতে প্রকৃতিপ্রেমীরা নিয়মিত ভিড় জমাচ্ছেন। ফুলবিহীন গাছটিকে দেখলে বড়সড় সবুজ ছাতার মতো মনে হবে। গাছটির দেশি নাম লালসোনাইল হলেও ক্যাশিয়া জাভানিকা নামেও পরিচিত।
লালসোনাইল সম্পর্কে জানা গেছে, শীতের শেষে গাছের সব পাতা ঝরে পড়ে। গ্রীষ্মের প্রথম ভাগেই পাতা ও ফুল প্রায় একই সময়ে আসে। রং লাল তবে কৃষ্ণচূড়ার মতো অতটা উগ্র নয়। লালসোনাইলের ফুল, পাতা ও গাছের গড়ন বেশ নান্দনিক।
সৌন্দর্যের পাশাপাশি আছে নানা ভেষজ উপকারিতা। প্রাচীনকাল থেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য, কোলিক ও ক্লোরোসিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। গাছটির পাতা হারপিস সিমপ্লেক্স (এক ধরনের ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণ) বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বাকল আয়ুর্বেদিক ও অন্যান্য ওষুধের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ট্যানারি শিল্পেও এটি ব্যবহার করা হয়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, চার বছর আগে তিনটি গাছ লাগানো হয়েছিল। প্রতিটি গাছ ফুলে ফুলে ভরে গেছে। এর সৌন্দর্য দেখতে প্রকৃতিপ্রেমীরা আসছেন। গাছের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। এসব দেখতে খুব ভালো লাগছে। বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না জানান, লালসোনাইল বাংলা নাম রাখেন প্রকৃতির বরপুত্র অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা। বীজের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার ঘটে।
