প্রতিশোধের লক্ষ্যে স্পেন, ইতিহাস ধরে রাখতে মরিয়া পর্তুগাল

স্পোর্টস ডেস্ক

এক বছরের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও পর্তুগাল। আগেরবার ছিল উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনাল, এবার মঞ্চ আরও বড়—বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াই। সেই তেতো স্মৃতি ভুলে প্রতিশোধের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন।

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১টায় ডালাসে মুখোমুখি হবে দুই আইবেরিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী।

গত বছরের নেশন্স লিগের ফাইনালে নির্ধারিত সময় ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৫-৪ ব্যবধানে জিতে শিরোপা ঘরে তোলে পর্তুগাল। সেই ম্যাচে স্পেনের স্বপ্ন ভেঙেছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই হারের জবাব দিতে চায় স্প্যানিশরা।

এই লড়াইয়ে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি থাকছে দুই প্রজন্মের দুই তারকার মুখোমুখি হওয়াও। একদিকে পর্তুগালের অভিজ্ঞ অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল।

নেশন্স লিগের ফাইনালের পর থেকে নিজেদের আরও গুছিয়ে নিয়েছে স্পেন। টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে তারা। বলের দখল, দ্রুত আক্রমণ গড়া এবং সংগঠিত রক্ষণ, সব মিলিয়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে লা রোখা। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে গোল হজমের পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আর কোনো দল তাদের জালে বল জড়াতে পারেনি।

তবে পর্তুগালও সমান শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। মাঝমাঠে ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও ব্রুনো ফার্নান্দেসের মতো সৃজনশীল ফুটবলাররা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। নেশন্স লিগের ফাইনালের জয়ও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।

রক্ষণে পর্তুগালের অন্যতম বড় ভরসা নুনো মেন্দেস। গতবার ইয়ামালকে আটকে রেখে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। এবারও স্পেনের আক্রমণভাগের সামনে দৃঢ় বাধা হয়ে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা থাকবে তার ওপর।

অন্যদিকে, স্পেনের আক্রমণভাগেও রয়েছে যথেষ্ট ধার। মিকেল ওইয়ারসাবাল নিয়মিত গোল পাচ্ছেন। ইয়ামাল এখনও নিজের সেরা ছন্দে না ফিরলেও শেষ বত্রিশে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখিয়েছেন। ম্যাচ শেষে এই তরুণ ফরোয়ার্ড বলেছিলেন, ‘আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে, তবে আমরা কাউকেই ভয় পাই না।’

পর্তুগালের নকআউট যাত্রা অবশ্য খুব সহজ ছিল না। শেষ বত্রিশে ক্রোয়েশিয়াকে হারাতে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে রবের্তো মার্তিনেসের দলকে। গ্রুপ পর্বেও এক জয় ও দুই ড্র নিয়ে রানার্সআপ হিসেবে শেষ করেছিল তারা।

এই ম্যাচেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন রোনালদো। ৪১ বছর বয়সেও গোলের ক্ষুধা হারাননি পর্তুগিজ মহাতারকা। গত নেশন্স লিগ ফাইনালেও তার গোলেই সমতায় ফিরেছিল পর্তুগাল, পরে টাইব্রেকারে জিতে শিরোপা নিশ্চিত করে দল।

ক্যারিয়ারের হাজারতম গোলের মাইলফলকের দিকে এগিয়ে চলা রোনালদোর জন্য জাতীয় দলের প্রতিটি ম্যাচই এখন বিশেষ। তার বোনের দাবি, বিশ্বকাপের পরই জাতীয় দলকে বিদায় জানাতে পারেন এই কিংবদন্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights