প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরে আশায় তিস্তাপাড়ের মানুষ
নজরুল মৃধা, রংপুর
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরকে ঘিরে তিস্তাপাড়ের মানুষের মনে আশা জাগছে। এ সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে- এমনটা আশা করছেন নদীপাড়ের কোটি মানুষ। স্থানীয়দের মতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাত ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা স্বপ্ন থেকে বাস্তবে রূপ নিতে পারে। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে উত্তরের অর্থনীতির চেহারা। তাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এ অঞ্চলের মানুষ- এ সফরেই যেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ৯ থেকে ১৩ মার্চ তিস্তাপাড়ের জেলা রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর ও নীলফামারীতে পৃথক গণশুনানি ও মতবিনিময় সভা করে পাওয়ার চায়না কোম্পানির কান্ট্রি ম্যানেজার হান কুন। তিস্তা ঘিরে মহাপরিকল্পনার প্রকল্পটি নাম দেওয়া হয়েছে ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’। প্রকল্পে রয়েছে- নদীতীর সংরক্ষণ ও মেরামত করা হবে ১১০ কিলোমিটার, নদী ড্রেজিং করা হবে ১১০ কিলোমিটার ১৩ কোটি ৩০ লাখ ঘনমিটার, বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করা হবে ২২ হাজার ৪৩০ মিটার, ৬৭টি গ্রোয়েন ও স্পার বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করা হবে, বাঁধের ওপর রাস্তা নির্মাণ করা হবে ২২ হাজার ৪৩০ মিটার এবং ভূমি পুনরুদ্ধার করা হবে ১৭১ বর্গকিলোমিটার। প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে কাজ শুরু থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। জানা গেছে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পাওয়ার চায়নার মধ্যে একটি নন-বাইন্ডিং সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। ‘পুনরুদ্ধারকৃত জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল, আধুনিক স্যাটেলাইট শহর, পাওয়ার প্ল্যান্ট, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ব্যবস্থা, উন্নত কৃষি ব্যবস্থা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠিত হবে। তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও আন্দোলন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি বলেন, আমরা তিস্তাপাড়ের লাখ লাখ মানুষ আশা করছি প্রধান উপদেষ্টা চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়টি তুলবেন। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন এ অপেক্ষায় রয়েছি।
