প্রশাসকের দপ্তরে ফাইলের পাহাড়
হাসান ইমন
সরকার পরিবর্তনের পর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। নিযুক্ত করা হয় প্রশাসক। সিটির দায়িত্ব পাওয়া এই প্রশাসকরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দায়িত্বেও রয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের কাজের চাপে প্রশাসকরা সিটি করপোরেশনে সপ্তাহে একবারও আসছেন না। গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের জন্য মাঝেমধ্যে সপ্তাহে দুই একবার এলেও সভা করে চলে যান। স্বাক্ষর হয় না কোনো ফাইল। এতে করপোরেশনের দাপ্তরিক, সেবামূলক এবং উন্নয়নমূলক কাজের ফাইল স্তূপ হয়ে আছে প্রশাসক দপ্তরে। স্বাক্ষর না হওয়ায় সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব। স্থানীয় সরকার সচিবের রুটিন কাজও করেন তিনি। এতে একার পক্ষে মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের কাজ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে দক্ষিণ সিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে সময় দিচ্ছেন না তিনি। গত নভেম্বর মাসে প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম চার/পাঁচ দিন করপোরেশনে আসেন। এর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত হন। সভা শেষে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল স্বাক্ষর করে তিনি মন্ত্রণালয়ে চলে যান। উন্নয়ণমূলক ও দাপ্তরিক অনেক ফাইল জমা পড়ে আছে তার দপ্তরে।
সবশেষ চলতি মাসে প্রথম সপ্তাহে তিন দিন করপোরেশনে আসেন প্রশাসক। এর মধ্যে রবিবার সভায় অংশ নেন এবং সভা শেষে কিছু ফাইল স্বাক্ষর করে চলে যান। একই অবস্থা উত্তর সিটিতেও। সংস্থাটির প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের দায়িত্বে। তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকলেও নগর ভবনে সপ্তাহে তিন/চার দিন আসেন। তার দপ্তরে ফাইলের স্তূপ অনেক কম থাকলেও চলমান কাজ স্থবির রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থবির উন্নয়ন কাজ : দক্ষিণ সিটির ৪টি খাল সংস্কার প্রকল্পের ৮৭৬ কোটি টাকার কাজ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে সরকার পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল খনন ও সংস্কার প্রকল্পে। এই প্রকল্পের কিছু অংশের কাজ হলেও বাকিটা এখন বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া ১০ তলা বঙ্গবাজার নগর পাইকারি বিপণিবিতান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। ৫১ কোটি টাকার ধানমন্ডি লেকে নজরুল সরোবর, জিয়া শিশু পার্ক, বিশাল অঙ্কের টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্প ও ৮৫০ কোটি টাকার ঢাকা নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। একই অবস্থা উত্তর সিটি করপোরেশনেও। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বড় ধরনের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এখানে বিগত সরকার আমলে মন্ত্রী মর্যাদায় দুজন মেয়র দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালনেও হিমশিম খাচ্ছেন। অথচ এই দুই মেয়রের স্থলে দুজন অতিরিক্ত সচিব দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়েও তারা কাজ করছেন। এতে সিটির কাজ সামলাতে চাপের মুখে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার চাইলে সব সময়ের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা অথবা কোনো রাজনৈতিক দলের কাউকে প্রশাসক হিসেবে দিতে পারেন। এতে কার্যক্রমগুলো মনিটরিং জোরদার হবে।
