প্রাথমিকের কারিকুলামে স্পিকিং-লিসেনিংয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে: ববি হাজ্জাজ

অনলাইন প্রতিবেদক

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিকের নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের শ্রবণ (লিসেনিং) ও কথন (স্পিকিং) দক্ষতার বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শুধু পড়া ও লেখার পাশাপাশি শুনে বোঝা, সঠিকভাবে কথা বলা এবং নিজের ভাবনা প্রকাশের দক্ষতা গড়ে তুলতে কারিকুলামেই প্রয়োজনীয় অনুশীলন ও কার্যক্রম রাখা হবে।

আজ বুধবার ঢাকা পিটিআইয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ টিএমটিই (ট্রেনিং অব মাস্টার ট্রেনার্স ইন ইংলিশ) সদস্য সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভাষা শিক্ষার চারটি মৌলিক দক্ষতা- শুনে বোঝা, বলে প্রকাশ করা, পড়ে বোঝা এবং লিখে প্রকাশ করা, সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ‘শুনে বোঝার’ দক্ষতা তৈরির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ ভাষা শেখার ক্ষেত্রে শ্রবণ ও অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, একজন বিজ্ঞানী, চিকিৎসক বা প্রকৌশলীর জন্য নিজ নিজ বিষয়ে দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলী তৈরি হয় শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে। তাই শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগও তাদের দিতে হবে। বিশেষ করে ইংরেজি ভাষায় যে বিপুল বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান সংরক্ষিত রয়েছে, সেই জ্ঞানে শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সাক্ষরতার হার বাড়ালেই শিক্ষিত সমাজ তৈরি হয় না। আমাদের এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন করবে, সেই জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারবে এবং বিশ্বজ্ঞান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রহণ করতে পারবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা হতে হবে সবার অধিকার এবং সবার দুয়ারে পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা হতে হবে দক্ষতাভিত্তিক, ক্যারিয়ারমুখী ও নৈতিকতাসম্পন্ন। এই লক্ষ্য অর্জনে ভাষা শিক্ষাকে শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষাদান যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের শেখানোর ক্ষেত্রে ভিডিও, ওয়ার্কবুক, ডিজিটাল কনটেন্ট, খেলা ও অন্যান্য আধুনিক শিক্ষণ-উপকরণ কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে শিক্ষকদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, আমরা পরিবর্তন চাই। কিন্তু সেই পরিবর্তন হতে হবে সুনির্দিষ্ট, বাস্তবভিত্তিক এবং ফলাফলনির্ভর। আপনারা কী চান, সেটি স্পষ্টভাবে বলুন; প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে আমরা আলোচনা করব এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব।

টিএমটিই বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক রিয়াজ পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের উপপরিচালক মারিয়া রেহমান। অনুষ্ঠানে টিএমটিই বাংলাদেশের সদস্যবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights