প্রেমিকা পাস, প্রেমিক ফেল, এরপর যে কাণ্ডে ফাঁস হলো প্রশ্নপত্রের রহস্য

অনলাইন ডেস্ক

প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর করা একটি অভিযোগই শেষ পর্যন্ত উন্মোচন করেছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের রহস্য। ভারতের মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ড্রাগ ইন্সপেক্টর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তদন্তে সামনে এসেছে এমনই এক সম্পর্কের গল্প, যেখানে প্রেম, ক্ষোভ ও প্রতিশোধের অভিযোগের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে সরকারি চাকরির একটি নিয়োগ পরীক্ষা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার্থী ঋতুজা পাতিলের বাবা অমৃত পাতিল তাঁর মেয়ের জন্য নান্দুরবারের কৌটিল্য কোচিং ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রবীণ পাতিলের কাছ থেকে প্রশ্নপত্রটি কিনেছিলেন। তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রবীণ এবং এমপিএসসির কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে ৫ লাখ রুপি লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পুরো লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ রুপি ছিল বলে ধারণা করছে তদন্তকারী সংস্থা।

ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে পরীক্ষার আগে। ঋতুজা তখন তাঁর প্রেমিক গৌরব পাতিলের সঙ্গে প্রশ্নপত্রটি শেয়ার করেন। গত ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ঋতুজা পাস করলেও গৌরব ফেল করেন। ফলাফল নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাদের সম্পর্কও ভেঙে যায়।

এরপরই গৌরব এমপিএসসির কাছে ইমেইলের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ করেন। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষোভ ও প্রতিশোধের বশে তিনি অভিযোগটি করেছিলেন। পরে নিজের করা অভিযোগ নিয়ে গৌরব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং অভিযোগ প্রত্যাহারের চেষ্টা করেন। এর মধ্যেই বিষয়টি এমপিএসসির নজরে আসে এবং তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে উঠে আসে, বিশেষজ্ঞদের তৈরি প্রশ্নভাণ্ডার থেকে বেআইনিভাবে প্রশ্ন সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেগুলো গোপনে বিক্রি করে পরীক্ষার আগে নতুন একটি প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।

এ ঘটনায় চলতি সপ্তাহের শুরুতে মামলা করা হয়। গত বুধবার মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ ব্যর্থ প্রেমিক গৌরব পাতিল, ঋতুজার বাবা অমৃত পাতিল, কৌটিল্য একাডেমির পরিচালক প্রবীণ পাতিল এবং এমপিএসসির তিন কর্মকর্তা বিশ্বেশ্বর দত্তাত্রয় নাকাত, অভিজিৎ গণপনরাও লেন্দভে ও গোপাল ভাট্টু মারাঠেকে গ্রেফতার করে।

আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্তদের আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের জেরে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বিভাগের অধীনে ড্রাগ ইন্সপেক্টর, গ্রুপ বি পদের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করেছে মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন।

গত ২২ মার্চ মহারাষ্ট্রের ছয়টি বিভাগীয় সদরে অফলাইন স্ক্রিনিং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ১২ জুন পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হলে ৫০৬ জন পরীক্ষার্থী সাক্ষাৎকারের জন্য যোগ্য বিবেচিত হন। তাঁদের মধ্যে ৪৮৮ জন ১ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকারে অংশ নেন।

এরপর ২২ জুলাই থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে এমপিএসসি পরীক্ষার্থী ও জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে কয়েকটি অভিযোগ পায়। এসব অভিযোগে দাবি করা হয়, পরীক্ষা শুরুর দুই দিন আগেই কিছু পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্র বা প্রশ্ন পেয়ে গিয়েছিলেন। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে বলেও অভিযোগ করা হয়।

তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান বাছাই প্রক্রিয়া আর এগিয়ে না নিয়ে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

তবে এমপিএসসি জানিয়েছে, নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর আগে যারা আবেদন করেছিলেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। একই সঙ্গে অতিরিক্ত কোনো ফিও দিতে হবে না।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights