ফাইলের জট কাটানো হবে নতুন কমিশনের চ্যালেঞ্জ
ওয়াজেদ হীরা
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন করেছে সরকার। কমিশনের অপর দুই সদস্য হলেন ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া। গতকাল রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। দুর্র্র্নীতি সংক্রান্ত ফাইলের জট কাটানো নতুন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন সংস্থাটির নতুন সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন বিসিএস ১৭ ব্যাচের এই কর্মকর্তা। সচিব বলেন, ‘কাজে সব সময়ই চ্যালেঞ্জ আছে। চ্যালেঞ্জ নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। যত দিন যে কর্মপরিবেশে থাকব সেখানের জন্য কিছু করতে চাই। মানুষকে হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে এবং নিরপরাধদের হয়রানি না করতে দুদক সর্বোচ্চটা করবে।’ রাষ্ট্রের সংবিধিবদ্ধ দুর্নীতিবিরোধী এ সংস্থাটিতে কার্যক্রমে কিছু নতুনত্ব আনার বিষয়েও কথা বলেন সদ্য যোগ দেওয়া সচিব।
দুদকের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘আমি এ মাসেই যোগ দিলাম। কমিশনে যাঁরা আসবেন তাঁরাও নতুন। দুদকে কোনো বিষয়ে মামলা করতে হলে অনুসন্ধান, তদন্ত, প্রতিবেদন দাখিল সবকিছুতেই কমিশনের অনুমোদন লাগে। দীর্ঘদিন কমিশন নেই। এ কাজগুলো থেমে আছে। প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন হয়নি। জমতে জমতে বেশ জটলা হয়েছে। এখন নতুন কমিশনে যাঁরা আসবেন তাঁদের জন্য দুদকে দীর্ঘদিন জমে থাকা জটলা কাটানো একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। আমরা কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে কয়েকটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করব। যেন জমে থাকা কাজগুলো দ্রুত সমাধান করা যায়।’ রাষ্ট্রের সংবিধিবদ্ধ দুর্নীতিবিরোধী এ সংস্থাটি নিয়ে নানান প্রত্যাশার কথা বলেন সচিব।
তিনি বলেন, ‘এখানে এখনো অটোমেশন সিস্টেম গড়ে ওঠেনি। আমরা দ্রুত এ কাজটি করতে চাই। ম্যানুয়ালি কাজগপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে দেখেছি। ম্যানুয়ালি কারও নামে মামলা খুঁজতে অনেক সময় লাগে, আবার ভুলও হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অটোমেশন থাকলে কার নামে কী মামলা সেটা এক ক্লিকেই দেখতে পাব। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগে পদোন্নতির আগে ব্যক্তির নামে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন আছে কি না জানতে চাওয়া হয়। তখন ম্যানুয়াল সিস্টেমে ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য যেতে পারে। সম্প্রতি যেটি বেবিচকের ক্ষেত্রে হয়েছে। কিন্তু যখন এটি অটোমেশন সিস্টেমে চলে আসে তখন ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য দেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে দুর্নীতিগ্রস্ত কারও কারও মধ্যে ম্যানুয়ালি থেকে অটোমেশনে যেতে অনীহা থাকতে পারে। কিন্তু এটি একটি স্বচ্ছ সিস্টেম।’ সচিব আরও বলেন, ‘দুদকে বিদেশিদের অর্থায়নে একটি সিস্টেম ডেভেলপ করা আছে যা এখনো উদ্বোধন করা যায়নি। নতুন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সেটিও করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘একটি চমৎকার কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম করা আছে। কার কাছে কতগুলো মামলা আছে, কত দিন আছে। নির্দিষ্ট সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করতে না পারলে তা স্কিনে দেখাবে ও সংকেত দেবে। এর ফলে প্রত্যেকের কাজের জবাবদিহিতা করা সহজ হবে। অথচ এটি চালু করা হয়নি। নতুন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আমরা এটি দ্রুতই চালু করতে চাই। এর ফলে দুদকের কাজে আরও গতি আসবে।’ দুদক সচিব বলেন, ‘এখানে লোকবলের অভাব আছে, প্রচুর লোক নিয়োগ করতে হবে। যাঁরা কর্মরত তাঁদের সমস্যাও দেখতে হবে।’ দুদকের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের নানান দুর্নীতি, লেনদেন, নেগোসিয়েশনের কথা জানা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘এখানে কাকে কতগুলো তদন্ত দেওয়া হলো সেটা নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলে। আরেকটা হলো সব কর্মকর্তা ভালো সেটা বলব না, সবাই খারাপ সেটাও নয়। এখানে এখন মেধাবীরা যোগ দিচ্ছেন। আমরা অসৎ কর্মকর্তা নজরে আসামাত্রই শাস্তির আওতায় আনব। আমাদের দেশে প্রত্যেক ব্যক্তির নামেই অভিযোগ করা যায়, দুদক এসব আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী বাস্তবতা আর প্রমাণ আছে এসব যাচাইবাছাই করে থাকে। অযথা মানুষকে হয়রানি করতে চায় না দুদক। কেউ এ রকম কোনো ব্যক্তিকে অহেতুক হয়রানি করলে আমরা আমাদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। গতানুগতিক কাজ থেকে বের হয়ে নতুনত্ব নিয়ে কাজ করতে আমি কর্মকর্তাদের বলেছি, মানুষের হয়রানি কীভাবে কমানো যায় সেটি বলেছি।’
