ফিফা কি খেলোয়াড়দের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছে?

অনলাইন ডেস্ক

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ও কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন বিশ্বের একদল শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে তীব্র তাপপ্রবাহ খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। ২০ জন বিশেষজ্ঞের সই করা একটি খোলা চিঠিতে ফিফার বর্তমান তাপ মোকাবিলা সংক্রান্ত নীতিমালাকে ‘অপ্রতুল’ এবং ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, বর্তমান আবহাওয়া ও বিজ্ঞানের সাথে ফিফার নিয়মগুলোর কোনো মিল নেই।

সম্প্রতি গত হওয়া ক্লাব বিশ্বকাপে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহামের চোখেমুখে পানি ছিটানোর দৃশ্যই যেন বলে দিচ্ছিল সামনের চ্যালেঞ্জ কতটা ভয়াবহ। বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, বিশ্বকাপের ১৬টি ভেন্যুর মধ্যে অন্তত ১৪টিতেই তাপমাত্রা বিপদসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকা ও উত্তর মেক্সিকোর কিছু অংশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। আর্দ্রতা ও রোদের তেজ মিলিয়ে এই আবহাওয়া একজন অ্যাথলেটের শরীরের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করে।

বিশেষজ্ঞরা ফিফার প্রস্তাবিত তিন মিনিটের কুলিং ব্রেককে একেবারেই যথেষ্ট মনে করছেন না। তাদের দাবি, এই বিরতি অন্তত পাঁচ থেকে ছয় মিনিট হওয়া উচিত এবং তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে ম্যাচ পুরোপুরি স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক করা দরকার।

গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের টুর্নামেন্টে বৈরী আবহাওয়ার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ। অনেক ম্যাচেই আবহাওয়া এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যা পেশাদার খেলোয়াড়দের ইউনিয়নের মতে ফুটবল খেলার জন্য একেবারেই অনিরাপদ। ‘নিউ ওয়েদার ইনস্টিটিউট’ এবং কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফিফা খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য নিয়ে এক ধরনের জুয়া খেলছে। কারণ অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোক বা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে প্রবল।

ফিফা অবশ্য সরাসরি এই চিঠির কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতিটি ভেন্যুতে রিয়েল-টাইম আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে এবং আবহাওয়া বুঝে ম্যাচের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। এছাড়াও স্টেডিয়ামগুলোতে ছায়াযুক্ত এলাকা, কুলিং বাস এবং অতিরিক্ত পানি সরবরাহের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে বিজ্ঞানীদের মূল দাবিগুলো অর্থাৎ ম্যাচের সময় পরিবর্তন বা দীর্ঘ বিরতির বিষয়ে ফিফা শেষ পর্যন্ত কতটা কঠোর অবস্থান নেবে, তা নিয়ে এখনো সংশয় কাটছে না ফুটবল বিশ্বে। ওদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, খেলোয়াড়দের জীবন রক্ষায় এখনই বিজ্ঞানের ভিত্তিতে নিয়ম সংশোধন করা ফিফার জরুরি দায়িত্ব।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights