“ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি কতোটা কার্যকর “

হাসিনা মরিয়ম

১৯১৭ সাল,ফিলিস্তিনের আকাশে এক কালো ছায়া ঘনিয়ে আসে, বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিন ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠন পক্রিয়ার শুরুটা হয়েছিল ১৯১৭ সালে, সেই ধারাবাহিকতায় দুই রাষ্ট্রভিত্তিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়,একই পরিকল্পনায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও তা কখনও আলোর মুখ দেখেনি,এরপর থেকে বিপর্যয় নেমে আসে ফিলিস্তিনিদের উপর পশ্চিমাদের চাপিয়ে দেওয়া বিভাজন অনৈতিক নীতির কারণে, তখন থেকে আজ অবধি নিদারুণ নিষ্ঠুর নির্মম নিপীড়ন নির্যাতনের মধ্য দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আজকের ফিলিস্তিন, পশ্চিমা বিশ্বের মদদে ইসরায়েল যুগের পর যুগ ধরে গনহত্যা চালাচ্ছে, পশ্চিমারা ১০০ বছর দিয়েছে গ্রেটার ইসরায়েল বানানোর জন্য, যা বাস্তবায়ন হয়নি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের প্রতিরোধের কারনে, ফিলিস্তিনের একমাত্র অপরাধ যেন তাদের ধর্মীয় পরিচয়, দিনের পর দিন হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল করে বসতি স্থাপন করেছে ইসরায়েল, আজ দ্বি-রাষ্ট্র ভিত্তিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর হয়তো কিছুটা আলোর পথ দেখবে ফিলিস্তিনিরা,

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৫৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল, এই প্রক্রিয়ায় দ্বি-রাষ্ট্র ভিত্তিক দাবি আরো জোরালো হয়ে উঠলো, গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে চলমান ইসরায়েলের জাতিগত নিধনের মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে ১৫৭টি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ এই স্বীকৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে,স্বাধীনতা সংগঠন হামাস ও স্বাগত জানিয়েছে,যথারীতি নিন্দা জানিয়েছে দখলদার ইসরায়েল,
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে নির্বিচার হামলা চালিয়ে জাতিগত নিধন শুরু করে ইসরায়েল যা এখনো চলমান, দুই বছর ধরে এই নির্বিচার হত্যায় শহীদ হয়েছে সরকারি হিসাব মতে ৬৫ হাজারের ও অধিক, বাস্তবে তা দ্বিগুনের ও বেশি, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ উপত্যকাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জেলখানা, বর্তমানে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের ১২ লাখ বাসিন্দাদের প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, ইসরায়েলের উদ্দেশ্য জাতিগত নিধনের মধ্যে দিয়ে গাজাকে দখলে নেয়া,
১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়, ঢাকার সঙ্গে ফিলিস্তিনের রয়েছে উষ্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক,বাংলাদেশ সবসময় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে সরব ভূমিকা পালন করেছে,ইসরায়েলের প্রতি কঠোর নিন্দা জানিয়ে আসছে সবসময়, বাংলাদেশে ফিলিস্তিনের দূতাবাস রয়েছে, কিন্তু ইসরায়েলের সঙ্গে কোন কূটনীতিক সম্পর্ক নেই, দেশটির সঙ্গে সবরকম বানিজ্য নিষিদ্ধ,

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে চারটি স্বীকৃতি দিয়েছে ফিলিস্তিনকে,( রাশিয়া, চীন যুক্তরাজ্য,ফ্রান্স) নিরাপত্তা পরিষদের আর এক সদস্য যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র ইসরায়েল এর পক্ষ নিয়ে বিরোধিতা করেছে,

তবে দেখার বিষয় এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, এটা কি শুধু কাগজে কলমে স্বীকৃতি হবে নাকি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে,নাকি ফিলিস্তিনের জন্য এই স্বাধীনতার স্বপ্ন শুধু অনিশ্চয়তায় পর্যবসিত হবে।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights