ফুটপাত দখল করে হকার ‘রাজ্য’
কামরুজ্জামান সোহেল, ফরিদপুর
ফরিদপুর পৌরসভার জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বিভিন্ন মোড়ে চলছে ফুটপাত দখলের হিড়িক। কোথাও কোথাও ফুটপাতের পাশাপাশি ব্যস্ততম সড়কের বেশির ভাগ দখল হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও দেখার যেন কেউ নেই। প্রতিরোধ তো দূরের কথা উল্টো প্রতিনিয়ত ফুটপাত-রাস্তা দখলের প্রতিযোগিতা চলে। এতে একদিকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে নগরবাসী। অন্যদিকে তীব্র যানজটের কারণে থমকে যাচ্ছে জীবনযাত্রা। এ নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ।
জানা যায়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোর মধ্যে থানা রোড, চকবাজার, নিউমার্কেট, হাজি শরীয়তুল্লাহ বাজার, জনতা ব্যাংকের মোড়, কাঠপট্টি, চকবাজার জামে মসজিদ, ডায়াবেটিকস হাসপাতাল মোড়, পূর্ব খাবাসপুর মোড়, বাদামপট্টি, ময়রাপট্টি, ব্রেইলি সেতু এলাকা, নিলটুলী স্বর্ণকারপট্টি, ঝিলটুলী বিদ্যুৎ অফিস এলাকা, অনাথের মোড়, কাঠপট্টি, পূর্ব খাবাসপুর লঞ্চঘাট, রাজবাড়ী রাস্তার মোড়, গোরস্তান মোড়, লাবলু সড়ক, আলীপুর মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত ও সড়ক দখল করে চলছে পণ্য বেচাকেনা। এসব এলাকায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসার পাশাপাশি সড়কেও বসানো হচ্ছে অস্থায়ী দোকান। অনেক স্থানে স্থায়ীভাবে দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে। দিনজুড়ে এসব এলাকায় অসহনীয় যানজট লেগে থাকে। সড়কগুলোর আধা কিলোমিটার যেতে লেগে যায় প্রায় এক ঘণ্টা।
শহরের পূর্ব খাবাসপুর এলাকার মোহাম্মদ তুষার বলেন, ‘থানা রোড থেকে শুরু করে চকবাজার, জনতা ব্যাংকের মোড়, বাদামপট্টিসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বেদখল হয়ে পড়েছে। এসব সড়ক দিয়ে চলাচল একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ঝিলটুলী মহল্লার রশিদুল ইসলাম, আতিয়ার রহমান বলেন ‘দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলো বেদখল হয়ে পড়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো একেবারেই সরু হয়ে গেছে। যারা এসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে তারা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কয়েকজনের দাবি, জীবিকার তাগিদেই তারা ফুটপাতে ব্যবসা করছেন। তাদের ভাষ্য, বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা এখানে বসছেন। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে স্বীকার করেন তারা। ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি জানান, শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উচ্ছেদের পর ফের দখল হয়ে যায়। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। দ্রুতই আবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
