ফ্যাসিবাদ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে: ফরিদা আখতার

মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, শেখ হাসিনার সাথে ফ্যাসিবাদও দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু তাদের দোসররা এখনও আমাদের আশপাশে ও অফিস-আদালতে ঘাপটি মেরে রয়েছে।

ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় আয়োজিত প্রান্তিক খামারি সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। বুধবার সকালে হরিহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রান্তিক খামারি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তরিকুল ইসলাম তুর্কির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান, পাকিস্তান হাইকমিশনার সৈয়দ আহমদ মারুফ, মার্কিন কোম্পানি হোয়াইট ব্রিজের প্রধান অপারেশন অফিসার গ্যাব্রিয়েল পিনেড ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল।

ফরিদা আখতার বলেন, বিল-বাওড় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মাঝে বরাদ্দ দিতে হবে। বিগত দিনে অনেক অমৎস্যজীবীদের হাতে দেশের বিল-বাওড় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জলমহাল নীতিতে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। জলমহাল নীতি সংশোধন করে আমরা বিল-বাওড় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনের বিনিময়ে নতুন পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। ছাত্রদের এই অবদান সারাজীবন মনে রাখতে হবে। শেখ হাসিনার আমলে যেসব সন্ত্রাসী বাহিনী নির্যাতন, খুন, গুম চালিয়েছে, আমরা তাদের কোনো সুযোগ দেব না। আমরা তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগকে ছোট করতে পারব না।

তিনি আরও বলেন, গত বছর এই দিনে আমরা জানতাম না, কখনও এভাবে উন্মুক্ত পরিবেশে কথা বলতে পারবো। ফ্যাসিবাদ আমাদের দমিয়ে রেখেছিল।

কৃষি ও প্রান্তিক খামারিদের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে খামারিদের প্রশিক্ষণ প্রদান, আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য, শিশুখাদ্য ও মাংস আমদানি কমিয়ে কিভাবে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়, সেটা নিয়েও আমরা কাজ করছি।

তামাক চাষ কমানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তামাক এমন একটি জিনিস, যা গরু-ছাগলেও খায় না। কিন্তু আমরা মানুষ তা চাষ করছি। তামাক চাষ বন্ধ করতে হবে। তামাকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে, মানুষকে সচেতন করতে হবে।

খামারি সম্মেলনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিডিপির প্রকল্প পরিচালক ড. মো. জসিম উদ্দিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ও তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights