‘ফ্যাসিবাদ বিতাড়নের যুদ্ধে অসামান্য অবদান রেখেছেন আইনজীবীরা’

অনলাইন ডেস্ক

অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান ফ্যাসিবাদকে বাংলাদেশ থেকে চিরতরে দূর করার সংগ্রামে আইনজীবীদের অগ্রগণ্য ভূমিকাকে সবার সামনে তুলে ধরে বলেছেন, এ যুদ্ধে তাদের ভূমিকা ছিল অসামান্য।

আজ শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের মাল্টিপারপাস হল রুমে ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বর্ধিত সভা-২০২৫’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের দ্বার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং সেই ফ্যাসিবাদ বিতাড়নের যুদ্ধে আমাদের আইনজীবীদের ভূমিকা ছিল অনবদ্য।’

তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের আইনজীবীরা দিনরাত পরিশ্রম করে রাজনৈতিক নেতাদের, মানবাধিকারের পক্ষে যারা কথা বলেছেন তাদের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। এজন্য অনেকে কোনো অর্থও গ্রহণ করেননি। বিগত আমলে দিনের পর দিন সরকারি দলের কর্মীরা আইনজীবীদের ওপর কর্তৃত্ব ফলানোর কাজ করেছেন। তবে, আজ আমরা সে অবস্থায় পরিবর্তন চাই, আর সেজন্যই আইনজীবী সমাজকে সামনের কাতারে এনে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অর্জিত এ নতুন বাংলাদেশের বার কাউন্সিলের দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমাদের সকলের সামনে প্রধান লক্ষ্য ছিল আমরা আইনি প্রক্রিয়াকে সমৃদ্ধ করে আরো সামনে এগিয়ে যাবো। দেশের মানুষের কাছে এই প্রতিষ্ঠানের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে সকল পদক্ষেপ নিয়েছি তার প্রথম সোপান ছিল নিয়মিত বার কাউন্সিলের পরীক্ষা গ্রহণ।

এযাবৎকালের সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে বার কাউন্সিল এগিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বার কাউন্সিল পরীক্ষার আগের দিন আমরা স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে গ্রেফতার অভিযান চালিয়েছি, যারা প্রশ্নপত্র বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে। আমরা এমন একটি পরীক্ষা পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে চাচ্ছি যে পদ্ধতির মধ্য দিয়ে গেলে পুনরায় সমাজে দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশের আইনজীবীদের সম্মান প্রতিষ্ঠিত হবে।

দল-মত নির্বিশেষে আইনজীবীরা যেন উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত হতে পারেন সে প্রচেষ্টা বার কাউন্সিল অব্যাহত রাখবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘দুর্নীতি, অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে, সেটি নিজেদের কমিউনিটির কেউ হলেও আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।’

এসময় আইনজীবীদের সুরক্ষার জন্য বেনোভেলেন্ট ফান্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতি বছর সরকারি রাজস্ব খাত থেকে বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ হয় মাত্র পাঁচশো কোটি টাকা। এত কম বরাদ্দের কারণে বিচারক ও আইনজীবী উভয়েই নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি জানান, জনপ্রশাসন ও আইনসচিবকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ইতিবাচকভাবে সাড়া দিয়েছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমরা সরকারের কাছে প্রস্তাব করব বাজেটের ১৫ হাজার কোটি টাকার মধ্য থেকে অন্তত তিন হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ বিচার বিভাগের জন্য দেওয়া হয়।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বার কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার (জেলা ও দায়রা জজ), বার কাউন্সিল এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও বার কাউন্সিলের সদস্যসহ আরো অনেকে।

দিনব্যাপী এ বর্ধিত সভায় অংশ নিচ্ছেন দেশের ৮৩ টি আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সদস্য ও বার কাউন্সিল কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights