ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ সেই সেনেগাল

আসিফ ইকবাল

২০০২ সালে এশিয়ায় বিশ্বকাপের প্রথম আসর। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান যৌথ আয়োজক। সাজ সাজ রব দুই দেশজুড়ে। সিউল বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামে ফুটবল মহাযজ্ঞের উদ্বোধনী ম্যাচ। মাঠে উপস্থিত ৬২ হাজারের ওপর ফুটবলপ্রেমী। সেবার আসরের সূচনা ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও নবাগত সেনেগাল। স্টেডিয়ামের দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন সেনেগালের বোবা দিওপ। তার গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চমকে দিয়েছিল আফ্রিকান লায়ন। সেই সেনেগালের বিপক্ষে ২২ বছর পর ফের মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স। দুই যুগ পর টানা দুই আসরের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স ও আফ্রিকান দেশ সেনেগাল আজ খেলবে নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ম্যাচটি দিয়ে শুরু হবে দুই দলের বিশ্বকাপ মিশন। একই সঙ্গে কিলিয়ান এমবাপ্পে, দিদিয়ের দেশমদের জন্য ম্যাচটি প্রতিশোধেরও।

চলতি বিশ্বকাপে একমাত্র কোচ দিদিয়ের দেশম, যিনি বিশ্বকাপ জিতেছেন ফুটবলার এবং কোচ হয়ে। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স প্রথমবার বিশ্বসেরা হয়েছিল দেশমের অধিনায়কত্বে। সেই দেশমের কোচিংয়েই ফ্রান্স গত দুই আসরে ফাইনাল খেলেছে। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০২২ সালে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরে রানার্সআপ হয়। চলতি বিশ্বকাপেও লা ব্লুজদের কোচ দেশম। তার কোচিংয়ে ফ্রান্স এবারও অন্যতম ফেবারিট। এর আগে অধিনায়ক হিসেবে ফ্রেঞ্জ বেকেনবাওয়ার চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন জার্মানিকে। আবার কোচ হিসেবে জার্মানি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিলেন ১৯৯০ সালে।

ফুটবলদুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের জন্য সেনেগাল এক ভীতিকর নাম। দুই যুগ আগে বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল সেনেগাল। বিশ্বকাপে সেটাই ছিল আফ্রিকান দেশটির প্রথম ম্যাচ। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ বিশ্বকাপে সেবারই প্রথম খেলেন বোবা দিওপরা। ২৪ বছর আগে ফ্যাবিয়েন বার্থেজ, লিলিয়াম থুরাম, মার্সেল দেসাইলি, থিয়েরে অঁরিদের চমকে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলে সেনেগাল বাজিমাত করেছিল কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স বিদায় নিয়েছিল প্রথম রাউন্ডে চার দলের সবার শেষে থেকে। দেশম এবার তৃতীয়বারের মতো কোচিং করাচ্ছেন ব্লুজদের। আসর শেষেই বিদায় জানাবেন প্রিয় দশকে। তার কোচিংয়ে ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে প্রস্তুত কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বলে, মাইকেল অলিসে, এনগালো কান্তেরা। বিশেষ করে এমবাপ্পে। গত দুই আসরে ১২ গোল করেছেন রিয়ালের তারকা স্ট্রাইকার এমবাপ্পে। ২০১৮ সালে ৪ গোল করেন। ২০২২ সালের ফাইনালের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হারলেও নির্ধারিত সময়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমবার হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট। গত আসরের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেন ফরাসী তারকা।

র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ৩ নম্বর দেশ ফ্রান্স। সেনেগালের র‌্যাঙ্কিং ১৬ নম্বর। দুই দল এখন পর্যন্ত একবার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল। সেটাও বিশ্বকাপে। ২০০২ সালে ফ্রান্স হেরেছিল ০-১ গোলে। সেনেগাল আফ্রিকার সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। দেশটি আফ্রিকান নেশন্স কাপের সর্বশেষ চার আসরের তিনটিতেই ফাইনাল খেলেছে। দলটির সবচেয়ে বড় তারকা সাদিও মানে। এ ছাড়া আফ্রিকান দলটিতে রয়েছেন ইদ্রিস গেয়িরাও, ইসমাইল সার, নিকোলাস জ্যাকসনদের মতো ফুটবলার। দলটির অধিকাংশ ফুটবলারই ইউরোপিয়ান লিগে খেলেন। দলটিও প্রস্তুত ৪-৩-৩ ফরমেশনে লম্বা রেসের ঘোড়া হতে। এই গ্রুপে রয়েছে নরওয়ে ও ইরাক। ফ্রান্স খেলবে ৪-৩-২-১ ফরমেশনে।

সেনেগাল গত বিশ্বকাপের সেরা ১৬ থেকে বিদায় নেয়। নকআউট ম্যাচে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছিল। আফ্রিকান দলটি প্রীতি ম্যাচে হেরেছিল আইভরি কোস্টের বিপক্ষে। গত এক বছরে আর কোনো ম্যাচ হারেনি। এবার নিজেদের প্রমাণে মরিয়া দলটি চতুর্থবার বিশ্বকাপ খেলছে। ২০০২ সালে প্রথমবার খেলতে নেমে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে। ২০১৮ সালে প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নেয় এবং সর্বশেষ আসরে শেষ ১৬-তে খেলেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights