ফ্লাইট শিডিউল লন্ডভন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করায় মধ্যপ্রাচ্যগামী ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ অবস্থায় এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট শিডিউল লন্ডভন্ড হয়ে যায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শত শত যাত্রী।

গতকাল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলো পুনর্র্নির্ধারণ (রিসিডিউল) করে যাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট রুটের ফ্লাইটগুলো আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু করা হবে। বিমান সূত্র জানিয়েছে, বিমান চলাচল আংশিক চালু হয়েছে। মদিনা, জেদ্দা এবং রিয়াদের তিনটি ফ্লাইটের নতুন শিডিউল দেওয়া হয়েছে। দুটি ফ্লাইট গতকাল মদিনা ও জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। গতকালের রিয়াদগামী একটি ফ্লাইট আজ দুপুরে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাবে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রুটে ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত থাকলেও ইউরোপসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বেসরকারি এয়ারলাইনস, যেমন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, আজ সকাল থেকে মাস্কাট ও জেদ্দা রুটে তিনটি ফ্লাইট চালু করেছে। সৌদি এয়ারলাইনসও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী পরিবহন করছে। দোহা, দুবাই এবং আবুধাবি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করবে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এক বার্তায় বিমানের সব যাত্রীকে নির্ধারিত সময়ের চার ঘণ্টা আগে এয়ারপোর্টে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। বিমানবন্দরে সরেজমিন দেখা যায়, ফ্লাইট বাতিলের পরও অনেক যাত্রী অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করছেন। নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় যাত্রীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। বিশেষ করে যারা কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইতালিগামী ট্রানজিট যাত্রী, তাদের মধ্যে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার জুয়েল মিয়ার রবিবার বিকাল ৫টায় কাতার যাওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইট স্থগিতের খবর পেলেও এজেন্সির পরামর্শে তিনি সকালে বিমানবন্দরে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, হটলাইনে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারিনি। এজেন্সি বলছে, বিমানবন্দরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হবে। এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। লক্ষ্মীপুরের জুবায়ের নামের আরেক যাত্রী জানান, শনিবার রাতে তার কাতার যাওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিমান কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলে। তিনি উত্তরা এলাকায় একটি হোটেলে রাত কাটান। রবিবার আবার বিমানবন্দরে এসে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গত শনিবার মোট ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ছিল এমিরেটসের একটি, গালফ এয়ারের একটি, ফ্লাইদুবাই একটি, এয়ার অ্যারাবিয়া তিনটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ছয়টি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১১টি ফ্লাইট। গতকাল সারা দিনে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা ৪০টি। এর মধ্যে জাজিরা এয়ারওয়েজের দুটি, এমিরেটস-এর পাঁচটি, গালফ এয়ার-এর দুটি, ফ্লাইদুবাই-এর চারটি, কাতার এয়ারওয়েজ দুটি, সালাম এয়ারের দুটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার আটটি, কুয়েত এয়ারওয়েজের দুটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস-এর চারটি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত আজকের ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

দুই দিনে শাহ আমানতের ২০ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল : মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে গত দুই দিনে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ২০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিভিন্ন গন্তব্যের ফ্লাইট রয়েছে।

শাহ আমানত বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। এরপর থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতিল হয়েছে আরও ১৪টি ফ্লাইট।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সংঘাত পরিস্থিতির মধ্যেও সালাম এয়ারের ফ্লাইট ওভি-৪০৩ মাস্কাট থেকে স্থানীয় সময় রবিবার বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এ ছাড়া ৪১৯ যাত্রী নিয়ে গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দার উদ্দেশে রওনা দেয় বিমানের ফ্লাইট বিজি-১৩৫। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এয়ার আরাবিয়ার মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ১টি অ্যারাইভাল ও মধ্যপ্রাচ্যগামী ১টি ডিপার্চার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্যগামী ১টি ডিপার্চার ফ্লাইট ও ১টি অ্যারাইভাল ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

এর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজ-এর চারটি, এমিরেটস-এর পাঁচটি এবং গালফ এয়ারের দুটি ফ্লাইট রয়েছে। সব মিলিয়ে তিন দিনে মোট ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসতে চাওয়া কয়েক হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights