ফ্লোরিডায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের সম্পদের সন্ধান

অনলাইন ডেস্ক

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও দুবাইয়ে বিপুল সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই দাবি করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের মাধ্যমে এসব সম্পত্তি কেনা হয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে দেশ থেকে অর্থপাচার করে যুক্তরাজ্যে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কেনার অভিযোগ উঠে। তবে আওয়ামী লীগের এই নেতা কেবল যুক্তরাজ্যে নয়, জমি কিনেছেন যুক্তরাষ্ট্রেও।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাবেদ ফ্লোরিডার ওকালা ন্যাশনাল ফরেস্টের কাছে ৫০ শতাংশের মতো জমি কিনেছেন, যা বর্তমানে বনভূমির অংশ। এ কারণে এই ভূমি নিয়ে শিগগিরই আন্তর্জাতিক মামলা হতে পারে। এছাড়া, তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে যুক্তরাজ্যে ৩১৫টি, দুবাইয়ে ১৪২টি, নিউইয়র্কে ১৬টি এবং ফ্লোরিডায় ছয়টি সম্পত্তি রয়েছে।

স্থানীয় মেরিয়ন কাউন্টির সম্পদ মূল্যায়নকারীর রেকর্ডে দেখা গেছে, এই জমি দুই দশক আগে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী কিনেছিলেন। জমিটি কেনা হয়েছিল ৪৮ হাজার ডলারের বিনিময়ে। এই জমি মূলত এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কিনেছিলেন।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জাবেদ ও তার নিকটাত্মীয়দের অন্তত ২৯৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে অর্জিত ৪৮২টি সম্পত্তি শনাক্ত করেছে। এগুলো কেনা হয়েছিল ১৯৯২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে। জাবেদের সম্পত্তিগুলোর মধ্যে—দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা জেলা এবং এর পাম জুমেইরা কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জের ফ্ল্যাট, লন্ডনের আশপাশের শহরগুলোর একাধিক ফ্ল্যাট। এর মধ্যে একটি দুই বেডের ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে লন্ডনের স্লাফ রেল স্টেশনের কাছে।

জাবেদ ২০২৩ সালে সংসদে ঘোষণা দেন তার ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ আছে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত তার সর্বশেষ ঘোষিত আয়কর রিটার্নে বলা হয়, তার কোনও বৈদেশিক আয় নেই। জাবেদ এবং তার কিছু আত্মীয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি একটি ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্তত ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই অর্থ ফেরত আনার পরিকল্পনা করছে এবং আন্তর্জাতিক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ আওয়ামী রেজিমের সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ ধনকুবেরদের একজন। তার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “তিনি ভূমিমন্ত্রী ছিলেন এবং মনে হচ্ছে, তিনি জমি খুবই ভালোবাসেন।”

অর্থপাচার নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এটা জনগণের টাকা, যা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।” ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষও বাংলাদেশ সরকারকে দুর্নীতি তদন্তে সহযোগিতা করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “যদি আমরা মনে করি যে, বিশ্বটা একসঙ্গে বসবাসকারী বন্ধুদের একটি কমিউনিটি এবং যদি আমার টাকা চুরি হয়ে আপনার দেশে জমা হয়, তাহলে আমি মনে করি, এটা ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের সাহায্য করার একটি বাধ্যবাধকতা আছে।”

এদিকে যুক্তরাজ্যে জাবেদের রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্যের আকার, সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী ও হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পত্তি গ্রহণের অভিযোগ অর্থনৈতিক অপরাধ এবং অবৈধ অর্থ প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রবিধানের শক্তি এবং ব্রিটিশ সরকারের নোংরা অর্থের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করে।

ব্রিটিশ এফবিআই-খ্যাত ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি আয়োজিত যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সমন্বয় কেন্দ্র বলেছে, তারা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে থাকা বড় দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে আগ্রহী। সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights