বইমেলায় প্রাণের স্পন্দন

মোস্তফা মতিহার

বইমেলার তৃতীয় দিনে ছুটির দিনের সকালে ছিল দ্বিতীয় শিশুপ্রহর। প্রহরটিতে শিশুদের উচ্ছ্বাস ও বইয়ের প্রতি আগ্রহ দেখে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন প্রকাশকরা। দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশুপ্রহর শেষে হঠাৎ নিস্তব্ধতা নেমে আসে বইমেলায়। এ সময় প্রকাশকদের মধ্যেও দেখা দেয় হতাশা। দুপুর ২টা থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত বেশির ভাগ স্টলই ছিল ক্রেতাশূন্য। যার কারণে হতাশার বলিরেখা ফুটে উঠেছিল প্রকাশকদের মাঝে। তবে, সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ইফতারের আধাঘণ্টা পরে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের উপস্থিতিতে ভিন্ন এক রূপ পায় বইমেলা। বলতে গেলে এ সময় মেলাজুড়ে সৃষ্টি হয় ভিন্ন এক ভালোলাগা। এ সময়টাতে কমবেশি প্রায় প্রতিটি স্টলের বিক্রয়কর্মীই ব্যস্ত ছিলেন বিকিকিনিতে। ইফতারের পর কথা হয় পুথিপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী সুজন বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, ইফতারের আগের পরিস্থিতি দেখে আমার নিজেরই খুব কষ্ট হচ্ছিল, তবে ইফতারের পরের পরিস্থিতিতে কষ্ট কমে গেছে। পাঠকদের আগমনের পাশাপাশি বিক্রি নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এই প্রকাশক। এ ধারা অব্যাহত থাকলে এবারের মেলা তার কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সুজন বিশ্বাস। গতকাল মেলার তৃতীয় দিনেও সব স্টলের কাজ শেষ করতে পারেননি অনেক প্রকাশক। এদিনও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে নির্মাণসামগ্রী এলোমেলোভাবে যত্রতত্র পড়ে থাকায় মেলার পরিবেশের সৌন্দর্যের হানি ঘটেছে। পাশাপাশি হাতুড়ি বাটালের টুংটাং শব্দ বিরক্তির উদ্রেক করেছে মেলায় আগতদের মাঝে। এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির সচিব ও মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. সেলিম রেজা বলেন, নানা সংশয় ও শঙ্কার পর এবারের মেলায় অংশ নিয়েছেন প্রকাশকরা। সে কারণেই হয়তো সব স্টলের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। আশা করছি দু-এক দিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্যানুযায়ী, বইমেলার তৃতীয় দিনে মোট নতুন বই এসেছে ৩৮টি। তিন দিনে মেলায় মোট নতুন বই প্রকাশ পেয়েছে ৫৪টি।

শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রথমিক বাছাই পর্ব : সকাল সাড়ে ১০টায় বইমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রথমিক বাছাই পর্ব। এতে ৩৪৭ জন (ক-শাখায় ৮২ জন, খ-শাখায় ১৮৫ জন এবং গ-শাখায় ৮১ জন) প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ৭ মার্চ ২০২৬।

মূল মঞ্চ : বিকাল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ: আহমদ রফিক’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসমাইল সাদী। আলোচনায় অংশ নেন মোস্তফা তারিকুল আহসান। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মনসুর মুসা। মূল প্রবন্ধে ইসমাইল সাদী বলেন, আহমদ রফিক জীবনের অধিকাংশ সময়ই ব্যয় করেছেন বাংলাদেশের ভাষা ও সাহিত্য বিকাশে। প্রবন্ধ, কবিতা, গবেষণা, সাহিত্য সমালোচনা, নতুন লেখকদের পৃষ্ঠপোষকতা, সাহিত্যপত্রিকা সম্পাদনা, উদ্যক্তা, সংগঠক- সব মিলিয়ে সৃষ্টি আর করমের এক অভূতপূর্ব সম্মিলন ঘটেছিল তাঁর যাপিত জীবনে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বে আহমদ রফিক ছিলেন সংগঠকের ভূমিকায়। এ পর্বে প্রতিটি সভা-মিছিল, প্রতিবাদী কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি। আলোচনার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কাজী বুশরা আহমেদ তিথি, ইশরাত শিউলি, জান্নাতুল ফেরদৌস মুক্তা এবং নাসিম আহমেদ। সংগীত পরিবেশন করেন সালাউদ্দিন আহমেদ, শহীদ কবীর পলাশ, ইয়াকুব আলী খান, নন্দিতা মণ্ডল, অপর্ণা মজুমদার, নুসরাত জাহান জেরিন এবং মো. জাকির হোসেন আখের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights