বগুড়ায় ইফতারে সাদা দইয়ের কদর, চাহিদা তিন গুণ

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

রমজান এলেই বগুড়ায় ইফতারের টেবিলে বাড়ে সাদা দইয়ের কদর। বাহারি পদের ভিড়ে বগুড়ার মানুষের কাছে সাদা দই বা টক দই অন্যতম পছন্দের খাবার। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হিসেবে ইফতারে দইয়ের প্রচলন রয়েছে এ জেলায়। রোজার দিনগুলোতে এর চাহিদা বেড়ে যায় প্রায় তিন গুণ।

স্থানীয়রা জানান, সারাদিন রোজা পালনের পর সাদা দই দিয়ে তৈরি ঘোল শরীরে শীতলতা এনে দেয়। দ্রুত শরীর ঠান্ডা করে বলেই রমজানে দই বিক্রি থাকে শীর্ষে। চাহিদার তুলনায় অনেক সময় সরবরাহ কম পড়ে।

বগুড়া শহরের বিভিন্ন দোকানে আকারভেদে সাদা দইয়ের হাঁড়ি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ২৬০ টাকায়। শহরের এশিয়া সুইট মিট ও দই ঘর, শ্যামলী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট দইঘর, আকবরিয়াসহ অর্ধশতাধিক শোরুমে সাদা দই বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফুটপাতেও বসেছে দইয়ের অস্থায়ী দোকান।

প্রথম রমজান থেকেই শহরের স্টেশন রোড, সাতমাথা, নবাববাড়ি রোড, রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ইফতারসামগ্রীর দোকান বসেছে। সাধারণ হোটেল থেকে উচ্চমানের রেস্তোরাঁ—সবখানেই রয়েছে ইফতার আয়োজন। ঝুড়ি, চিঁড়া, বাদাম, ডালভাজা, নিমকপাড়া, বুন্দিয়া, শাহী জিলাপি, রেশমি জিলাপি, বেগুনি, পিঁয়াজি, বিভিন্ন ধরনের চিকেন ও কাবাবের পদ ছাড়াও খাসি বা গরুর হালিমের চাহিদাও বাড়ছে।

সাদা দই নানা উপায়ে খাওয়া হচ্ছে—ঘোল বানিয়ে, চিঁড়া, খই বা মুড়ির সঙ্গে মিশিয়ে, আবার দই দিয়ে মাংসের বিভিন্ন পদও তৈরি করা হচ্ছে।

সাতমাথার দই বিক্রেতা জুয়েল হাসান জানান, রমজানকে ঘিরে প্রতি বছর সাদা দইয়ের চাহিদা ব্যাপক থাকে। তবে আগের তুলনায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তাঁর দোকানে সাদা দই ৯০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় হাঁড়ি দই বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়।

ইফতার কিনতে আসা আমিনুর প্রামাণিক বলেন, রমজানে পরিবারের সবার পছন্দ সাদা দই। সারাদিন রোজার পর সাদা দই দিয়ে ইফতার করলে তৃপ্তি মেলে। তাই ইফতারের তালিকায় দই রাখতেই হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights