বগুড়ায় প্রবেশপত্র না পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি ১০ শিক্ষার্থী

বিশেষ প্রতিনিধি, বগুড়া

প্রবেশপত্র না পাওয়ায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। কলেজের এক খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণের চেষ্টা করলেও তিনি প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে কলেজের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

কলেজ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ বছর মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজ থেকে তিন বিভাগে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তবে নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ করতে না পারা মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেন কলেজের খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন। প্রায় দুই মাস আগে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নেন।

গত ২৪ জুন অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড বিতরণ করা হলেও ওই ১০ শিক্ষার্থী তা পাননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাওন তাদের জানান, দেরিতে ফরম পূরণ করায় প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড পেতে কিছুটা সময় লাগবে। পরে ৩০ জুন ও ১ জুলাই দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে বুধবার রাত ৯টার পর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার পরীক্ষার দিনও প্রবেশপত্র না পেয়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সম্রাট সরকার বলেন, শাওন নিজেকে কলেজের স্টাফ পরিচয় দিয়ে আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ফরম পূরণের ব্যবস্থা করবেন। সেই বিশ্বাসে আমরা টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি শুধু আশ্বাস দিয়ে সময় পার করেছেন। এখন আমাদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়ে গেল। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান বলেন, বুধবার বিকেলে দুই শিক্ষার্থীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। কলেজে সব ধরনের ফি ব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়া হয় এবং ফরম পূরণের জন্য আলাদা কমিটি রয়েছে। হাতে টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।

তিনি বলেন, শাওন খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। বিষয়টি জানার পর তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বর্তমানে তার মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights