বগুড়ায় বাস ভাঙচুর মামলার আসামিদের চেনেন না বাদী
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
গত ১৮ জুলাই বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় শাহ ফতেহ আলী পরিবহন ভাঙচুরের অভিযোগে চালক মো. ফেরদৌসের করা মামলার আসামিদের কাউকে চেনেন বলে বগুড়া নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এফিডেভিটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া নোটারি পাবলিক কার্যালয়ের অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা পাপন।
ওই এফিডেভিটে উল্লেখ করা হয় সাদা কাগজে টিপসই নিয়ে মামলা সাজিয়েছে পুলিশ। বগুড়া নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে এমন ঘোষণা দেন মামলার বাদী ফেরদৌস।
জানা গেছে, গত সোমবার বগুড়া নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা পাপনের কাছে এফিডেভিট করেছেন মামলার বাদী ফেরদৌস। তিনি লিখতে ও পড়তে পারেন না। টিপসই দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করেন।
এর আগে ১৮ জুলাই বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে দুপচাঁচিয়ায় ফেরদৌসের চালিত বাস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে আদমদীঘি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবদুল মুহিত তালুকদারসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়।
অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা পাপন জানান, গত ১৮ জুলাই দুপুরে নওগাঁ থেকে বাস নিয়ে দুপচাঁচিয়ার সাহারপুকুর বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কয়েকটি বাসের কাঁচ ভাঙচুর করেন। এ সময় শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বাসেরও কাচ ভাঙচুর করা হয়। এতে জড়িতদের কাউকেই তিনি চেনেন না মামলার বাদী। এ জন্য দুপচাঁচিয়াতে দায়ের হওয়া ওই মামলার বাদী সোমবার এভিডেভিট করেন। এতে তিনি দাবি করেছেন আসামি কাউকেই তিনি চেনেন না।
এছাড়াও পুলিশ সাদা কাগজে তার টিপসই নিয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এই এভিডেভিট দিয়ে আসামিরা আদালতে জামিন ও খালাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
ফেরদৌস জানান, এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই তিনি দুপচাঁচিয়া থানায় অভিযোগ করতে যান। তখন পুলিশ একটি সাদা কাগজে তার টিপসই নেয়। এরপর জুয়েল আলী, আবদুল মুহিত তালুকদারসহ আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির ২২ জনের নাম উল্লেখ করে ফেরদৌসকে বাদী করে মামলা করে পুলিশ।
এজাহারে তার টিপসই শনাক্তকারী হিসেবে রুহুল আমিন নামে একজনের নাম লেখা রয়েছে। যাকে তিনি চেনেন না। মামলার কোনও আসামি বাস ভাঙচুরে জড়িত নন। তাদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি দিলে তার আপত্তি থাকবে না।
ফেরদৌস আরও জানান, ওইদিন বিএনপির কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে কয়েকজন বাস ভাঙচুর করেছিল। তবে কাউকে আমি সরাসরি দেখিনি।
দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, বাস ভাঙচুরের ঘটনায় চালক ফেরদৌস বাদী হয়ে আসামিদের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। সাদা কাগজে টিপসইসহ তার অভিযোগ মিথ্যা।
