বগুড়ার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে হাজারো মানুষের ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে বগুড়ায় বিনোদন কেন্দ্রগুলো উৎসবপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। পার্ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে সবখানেই উপচে পড়া ভিড়। ঈদের চতুর্থ দিনেও মম ইন, ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়, সারিয়াকান্দির কালিতলা গ্রোয়েনবাঁধ, বগুড়া গ্রিন রিসোর্টসহ শহরের আশেপাশের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে হাজারো মানুষ ভিড় করছেন। বিশেষ করে মম ইনে ক্যাবল কার চালু হওয়ায় এখানে দর্শনার্থীদের বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে। এখানকার নতুন রাইড, ক্যাবল কার এবং মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দর্শনার্থীদের মন কেড়েছে।

এ ছাড়াও ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় ও সারিয়াকান্দিতে মানুষের ঢল নেমেছে। পরিবার আর প্রিয়জনদের সঙ্গে এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই হয়ে উঠছে ঈদের আসল আনন্দ। ঈদের আনন্দ আরও প্রাণবন্ত করতে বগুড়ার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র সাজানো হয়েছে নতুন আঙ্গিকে। বগুড়া মম ইন পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের অপারেশন ম্যানেজার মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষে হোটেলের চারপাশে ৪০ মিনিটের রাউন্ড ট্রিপের ব্যবস্থা রয়েছে। একটি চেম্বারে চারজন করে দর্শনার্থী বসে মম ইন এবং এর আশেপাশে যে প্রাকৃতিক পরিবেশ আছে তা উপভোগ করতে পারবেন।

এদিকে ঈদের চতুর্থ দিনেও সারিয়াকান্দির যমুনার তপ্ত বালুচর আর শীতল জলরাশি এখন উৎসবপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর পাড় ঘেঁষে নির্মিত কালিতলা গ্রোয়েন ও ‘প্রেম যমুনার ঘাট’ (দিঘলকান্দি হার্ড পয়েন্ট) এলাকায় এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। ঈদের দিন বিকাল থেকে শুরু হওয়া এই জনস্রোত গতকালও অব্যাহত ছিল। শুধু বগুড়া নয়, পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জ জেলা থেকেও অসংখ্য পর্যটক ভিড় জমাচ্ছেন যমুনার চরে।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সারিয়াকান্দির কালিতলা গ্রোয়েন ও প্রেম যমুনার ঘাটকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। নাব্য সংকটের কারণে যমুনার বিশাল বালুচরে হেঁটেই নদী পার হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। তরুণ-তরুণীদের মাঝে নৌকায় চড়ে সেলফি তোলা এবং বালুচরে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলার ধুম পড়েছে। এ ছাড়া হাটশেরপুর ইউনিয়নের হাসনাপাড়া স্পার, কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের মথুরাপাড়া হার্ড পয়েন্ট ও ফিসপাস এবং কুতুবপুরের নদী তীর রক্ষা বাঁধ এলাকাতেও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। পর্যটকদের এই বিশাল সমাগমকে কেন্দ্র করে সারিয়াকান্দির স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। যমুনা পাড়ে অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা শতাধিক খাবারের দোকান, খেলনা ও প্রসাধনীর স্টলে বিক্রি বেড়েছে কয়েক গুণ। বিনোদনের জন্য বসেছে ভ্রাম্যমাণ মেলা, যেখানে নাগরদোলা, চরকি ও শিশুদের জন্য জাম্পিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। স্থানীয় হোটেলগুলোতেও দেখা গেছে পর্যটকদের দীর্ঘ লাইন।

সারিয়াকান্দিতে নবরূপে সজ্জিত কালিতলা হার্ড পয়েন্টে পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছেন শাজাহানপুর উপজেলার আমিরুল ইসলাম। তিনি জানান, এবারের ঈদে ছুটি বেশি। তাই স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে এসেছেন। শ্যালোচালিত নৌকা ভাড়া নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা যমুনা নদীতে বেড়িয়েছেন। আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকলেও নদীতে নৌকায় গরম লাগেনি। পরিবারের সবাই অনেক দিন পর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ ও সুন্দর সময় কাটিয়েছেন।

এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক পর্যটক বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে ভিড় করেছেন। তারা মহাস্থান জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো পরিদর্শন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights