বজ্রপাতে নরসিংদী ও সাভারে ছয়জনের মৃত্যু
নরসিংদী ও সাভার প্রতিনিধি
দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। রবিবার নরসিংদীর মনোহরদী ও ঢাকার সাভারে পৃথক ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন মাদরাসা শিক্ষার্থী এবং তিনজন কৃষিকাজে নিয়োজিত ব্যক্তি রয়েছেন। এছাড়া একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় বজ্রপাতে তিন মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়নের পাঁচকান্দি মদিনাতুল উলুম মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম, আবু রায়হান ও আবু জাফর। তাদের বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাগরিবের নামাজের আগে মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী অজু করছিল। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে চার শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. বুলবুল কবির জানান, বজ্রপাতে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীর অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্যদিকে একই দিন বিকেলে ঢাকার সাভার উপজেলার বনগাঁ ইউনিয়নের কুন্ডা এলাকায় জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
মৃতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন বনগাঁ ইউনিয়নের দ্বীন ইসলাম (৪৫) ও দুলাল (৬০)। অপর একজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়রা জানান, বিকালে কয়েকজন শ্রমিক মাঠে কাজ করছিলেন। এ সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন ক্ষেতের মালিক দ্বীন ইসলাম। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর মোহাম্মদ বলেন, বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। বাকি একজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিধি অনুযায়ী নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
