বড়াইগ্রামে ট্রাক থামিয়ে কোরবানির গরু ডাকাতি
নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাক থামিয়ে একজনকে মারধর করে চারটি কোরবানির গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (০৮ জুন) দিবাগত রাতে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের মাঝগাঁও ইউপি কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ট্রাকের চালক ও চালকের সহকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
আহত ব্যাক্তির নাম দবির উদ্দিন (৫৬)। তিনি পাবনা জেলার ইশ্বরদী উপজেলা সারিকাজি গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। আটক ট্রাকের চালক পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা মধুরাপুর গ্রামের মৃত মোতাহার আলীর ছেলে আব্দুল আলীম (৩২) ও চালকের সহকারী আনকুটিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান শিকদারের ছেলে স্বাধীন হোসেন (২০)।
আহত দবির উদ্দিন বলেন, উপজেলার রাজাপুর বাজারের শাজাহান কবির সাজু চারটি কোরবানির গরু বিক্রি করার জন্য ট্রাকে করে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের মাঝগাঁও ইউপি কার্যালয়ের সামনে যাওয়ার পর একটি ট্রাক আসে। তখন আমাদের ট্রাক নিচের রাস্তায় নামিয়ে গরু ওই ট্রাকে তুলতে থাকে। আমি বাধা দিলে আমার চোখেমুখে শুকনা মরিচের গুড়া দিয়ে মারধর করে গাছের সাথে বেধে পিস্তল ধরে রাখে। পরে ট্রাক নিয়ে চলে গেলে আমি মুখ দিয়ে হাতের বাঁধন খুলে পাশের বাড়িতে যাই। তারা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। ট্রাক থামিয়ে চালক ও চালকের সহকারি দূরে চলে যায়। আমার ধারণা এই ঘটনার সাথে তারা জড়িত আছে।
গরুর মালিক শাজাহান কবির সাজু বলেন, কোরবানি উপলক্ষ্যে চারটি গরু ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা চৌধুরীপাড়া এলাকার হাফিজ উদ্দিনের ছেলে আজিমুদ্দিনের ট্রাকে করে দবির উদ্দিনের মাধ্যমে শনিবার রাতে ঢাকাতে বিক্রি করার জন্য পাঠিয়েছিলাম। আমার ধারণা ট্রাকের চালক ও তার সহকারীকে ভালো করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমার গরু উদ্ধার করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, কোববানি উপলেক্ষ্যে লাভের আশার আমরা ঢাকায় গরু নিয়ে যাই। এই ভাবে যদি আমাদের গরু ডাকাতি হয় আমরা পথে বসে যাব। আমরা রাস্তায় নিরাপত্তা চাই।
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক শাফিউল আযম খাঁন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত খোয়া যাওয়া গরু উদ্ধার করতে সক্ষম হবো।
