বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, চলতি মৌসুমে মৃত্যু ৭৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে বরিশাল বিভাগে ৭৫ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

অপরদিকে, সরকরি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

ররিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল শনিবার বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিল ১ হাজার ২২৫ জন ডেঙ্গু রোগী।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের দৈনন্দিন রিপোর্টে জানা যায়, গত মে মাস থেকে বরিশালে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে মোট ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় শের-ই বাংলা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পিয়ারা বেগম (৭০), পিরোজপুরের নেছারাবাদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মমতাজ বেগম (৬০) এবং ভোলার বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারিকুল ইসলাম (৬৫) নামে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

বরিশাল বিভাগের মধ্যে ডেঙ্গুতে সর্বাধিক ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, দ্বিতীয় সর্বাধিক ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ভোলায়। এছাড়া পিরোজপুরে ৭ জন, বরগুনায় ৫ জন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন, পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং বরিশাল জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জনের মৃতু হয়েছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর বরিশাল বিভাগে একদিনে সর্বোচ্চ ৭ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন শের-ই বাংলা মেডিকেলে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে পটুয়াখালীর গলচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

এদিকে, রবিবারের সবশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল শনিবার বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিল ১ হাজার ২২৫ জন রোগী। এর মধ্যে সর্বাধিক ২৩৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এর আগে গত শুক্রবার শের-ই বাংলা মেডিকেলে ২৭৩ জন সহ বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিল ১ হাজার ২৮৫ জন রোগী।

বরিশালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বাড়ার কারণ হিসেবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপাপ্ত) ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এডিস লার্ভা ছড়িয়ে পড়েছে। অন্য মশার উৎপাতও আছে। ২ মাস আগে পিরোজপুরে নেছারাবাদে এবং পটুয়াখালীর দুমকীতে পরীক্ষায় এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। শুধু নেছারাবাদ আর দুমকী নয়, অন্যান্য জেলা-উপজেলায়ও এডিস লার্ভা ছড়িয়ে পড়েছে। বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এটা উদ্বেগজনক।

এর থেকে পরিত্রানের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, সরকারি স্বাস্থ্য বার্তাগুলো মেনে চলতে হবে। সরকার কারো ঘরে কিংবা ঘরের পাশে জমে থাকা পানি অপসারণ করবে না। বাড়ি-ঘর পরিষ্কার করে দেবে না। যার যার নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্ক এবং সচেতন থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে। মশারি ছাড়া দিনে কিংবা রাতে কেউ ঘুমাবে না। সরকারি নির্দেশনাগুলো মেনে চললেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights