বরেন্দ্র প্রকল্পে সেবার মানে ধস
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
উত্তরাঞ্চলের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন, কয়েক হাজার গভীর নলকূপ পরিচালনা এবং বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষি সচল রাখার দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) পূর্ণাঙ্গ ও অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম (সাংগঠনিক কাঠামো) ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে পদ সৃষ্টি, জনবল নিয়োগ, পদোন্নতি, দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় অনেক পদ নেই, আবার অনেক কর্মকর্তা বছরের পর বছর চলতি দায়িত্বে কাজ করছেন। এতে একদিকে যেমন প্রশাসনিক দক্ষতা কমছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জবাবদিহি ও সুশাসন। বিএমডিএর ওয়েবসাইটে সাংগঠনিক কাঠামোর একটি বিভাগ থাকলেও অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম বা পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামোর তথ্য নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএমডিএর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয় কোন পর্যায়ে কতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবেন, কীভাবে দায়িত্ব বণ্টন এবং পদোন্নতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অর্গানোগ্রাম না থাকলে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। প্রকল্পনির্ভর জনবল বৃদ্ধি পেলেও স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠে না। এতে দক্ষ জনবল ধরে রাখা এবং সেবার মান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিএমডিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম জানান, ১৯৮৫ সালে বরেন্দ্র সমন্বিত এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প (বিআইএডিপি) হিসেবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। পরে ১৯৯২ সালে এর নতুন নামকরণ হয় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। ২০১৮ সালে সংসদে ‘বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ’ পাস হয়। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৩৫টি উপজেলায় গভীর নলকূপ স্থাপন, নিবিড় বনায়ন, সেচনালা নির্মাণ, খাল খনন এবং গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে বিএমডিএ তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিএমডিএ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরোক জানান, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ১ হাজার ৯১১ জন জনবলের একটি প্রস্তাবিত কাঠামো কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে ৬০০ জনের একটি নিয়োগের আদেশ অপেক্ষমাণ আছে। এটি বাস্তবায়িত হলে পরে চাহিদা অনুযায়ী জনবল কাঠামোর বিষয়টিও সমাধান হবে। বিএমডিএ চেয়ারম্যান হাসান জাফির তুহিন বলেন, অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়নের বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় আছে। অনুমোদন পেলে প্রশাসনিক জটিলতার অনেকটাই দূর হবে।
