বসুন্ধরার সহায়তায় পাহাড়ি নারীদের জীবন বদলের স্বপ্ন

অনলাইন ডেস্ক

‘স্বামী পাহাড় থেকে লাকড়ি কুড়িয়ে আনেন, সেগুলো বিক্রি করেই কোনোমতে সংসার চলে। এখন সেলাই শিখেছি। এই মেশিন দিয়ে কাজ করে সংসারের আয় বাড়াতে চাই।’ কথাগুলো বলছিলেন বান্দরবান জেলার লামা পৌরসভার বৈদ্যপাড়া এলাকার আখাংমা মারমা। দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে তাঁর কণ্ঠে এবার ধরা পড়েছে নতুন আশার সুর। একই স্বপ্ন দেখছে লামা পৌরসভার মধুঝিড়ি এলাকার সরকারি মাতামুহুরী ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী আফরিনা সুলতানা।

বাবা একজন রিকশাচালক। পরিবারের সীমিত আয়ের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়াই তার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। আফরিনা বলল, ‘এখন নিজের দক্ষতা দিয়ে আয় করতে পারব। এতে পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারেরও উপকার হবে।’

বসুন্ধরার সহায়তায় পাহাড়ি নারীদের জীবন বদলের স্বপ্নআখাংমা ও আফরিনার মতো আরো ১৮ জন নারীকে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় তিন মাসব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে একটি করে সেলাই মেশিন দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। পাহাড়ি জনপদের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। বান্দরবানের সীমান্তঘেঁষা লামা উপজেলায় নিম্ন আয়ের পরিবারের নারীদের আয়মুখী কাজের সুযোগ তুলনামূলক কম। দক্ষতা ও পুঁজির অভাবে অনেকেই কর্মসংস্থানের বাইরে থেকে যান। সেই বাস্তবতায় গত ২১ আগস্ট শুক্রবার লামা উপজেলা অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০ জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন ও একটি করে ফলদ গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে কালের কণ্ঠের লামা উপজেলা প্রতিনিধি তানফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন লামা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আমির হোসেন, লামা থানার ওসি (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী তথ্য অফিসার রাশেদুল হক রাসেল, বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা মাজেদা বেগম, লামা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, উপজেলা শুভসংঘের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, কালের কণ্ঠের লোহাগাড়া প্রতিনিধি আবু নাহিয়ান চৌধুরী প্রমুখ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ‘বর্তমান সরকার নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রম অনেক প্রশংসনীয়। তাদের এই উদ্যোগ নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বসুন্ধরা গ্রুপ ও শুভসংঘকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এবং আশা করি, ভবিষ্যতেও তারা এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’

লামা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আমির হোসেন বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে সারা দেশে বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে বান্দরবানের নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিতরণের মতো উদ্যোগ অত্যন্ত যুগোপযোগী ও প্রশংসনীয়। এই ধরনের কার্যক্রম নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং তাদের পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমি বসুন্ধরা শুভসংঘের এ মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানাই এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।’

লামা থানার ওসি (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রম সত্যিই ব্যতিক্রম ও প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে অসচ্ছল নারীরা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এবং স্বাবলম্বী হতে উৎসাহিত হবেন। এ মহতী উদ্যোগের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপ ও শুভসংঘকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতেও তারা এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে—এই প্রত্যাশা করছি।’ অনুষ্ঠান শেষে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে পাওয়া সেলাই মেশিন ও গাছের চারা নিয়ে সচ্ছল হওয়ার দৃঢ়প্রত্যয়ে এবং নিজেদের জীবন বদলের গল্প লেখার আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাড়ির পথ ধরেন দরিদ্র পরিবারের অসচ্ছল নারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights