বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ : ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেল ১৪৩ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ‘বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা ২০২৫’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৫ হাজার ৮৭১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। দেশবরেণ্য শিল্পীদের সমন্বয়ে গঠিত জুরিবোর্ড প্রতিযোগিতা শেষে ১৪৩ জন খুদে শিল্পীকে বিজয়ী ঘোষণা করে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-এর নবরাত্রি হলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে স্কুলপর্যায়ে সর্ববৃহৎ এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাটি গত ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিযোগিতার জুরিবোর্ড প্রধান, স্পেনের রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াশা সোবহান।

এছাড়া জুরিবোর্ডের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লোকজ শিল্পের রূপকার আবদুস শাকুর শাহ, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী ও অধ্যাপক ড. ফরিদা জামান, একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রচ্ছদশিল্পী ধ্রুব এষ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আনিছুর রহমান এবং কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।

প্রতিযোগিতাটি তিনটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ক্যাটাগরিতে তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি, দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণি এবং তৃতীয় ক্যাটাগরিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ৩০ লাখ টাকার ১৪৩টি পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। পুরস্কার বিতরণী শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুরিবোর্ড প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ আয়োজিত এই ঐতিহাসিক মেগা আর্ট ওয়ার্কশপ শিশুদের সৃজনশীল মেধা বিকাশে এক অনন্য মাইলফলক, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবন বদলে দিতে পারে।

তিনি বলেন, শিশুরাই প্রকৃত শিল্পী যাদের ছবিতে বড়দের মতো কোনো তাত্ত্বিক জটিলতা নেই। ছবি আঁকা তাদের মনের ভাষা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম এবং বিশেষ করে অটিস্টিক বা সংঘাতের শিকার শিশুদের মানসিক অবস্থা বোঝার ক্ষেত্রে এটি একটি শক্তিশালী উপায়।

তিনি আরও বলেন, শিল্পচর্চা কেবল শিল্পী হওয়ার জন্য নয়; ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারসহ যেকোনো পেশায় সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং নীতি ও নন্দনতত্ত্ব শেখার জন্য এটি অপরিহার্য। শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা সমাজে সহিংসতা রোধ এবং মানুষের মানসিক প্রশান্তি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ ধরনের বিশাল আয়োজন প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইয়াশা সোবহান বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠান কেবল একটি পুরস্কার বিতরণী নয়, এটি শিশুদের মন, কল্পনা, স্বপ্ন ও সৃজনশীলতার এক মহা উদযাপন। শিক্ষার্থীরা তাদের চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও ত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরেছে।

তিনি বলেন, বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আমাদের উপলব্ধি করিয়েছে- শিশুদের সুযোগ দিলে তারা অত্যন্ত সুন্দরভাবে নিজেদের প্রকাশ করতে পারে।

ইয়াশা সোবহান এ আয়োজনের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের সম্মানিত চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তিনি সবসময় শিক্ষা, শিশু ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের পাশে থাকেন। তার দূরদর্শী চিন্তা ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই দেশে এত বড় পরিসরে এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন সম্ভব হয়েছে।

ইয়াশা সোবহান আরও বলেন, আজকের দিনটি তার জন্য অত্যন্ত আবেগময়, কারণ এই আয়োজনে বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা প্রমাণ করেছে- প্রতিভার কোনো সীমা নেই। অনেক ক্ষেত্রে ছবি আঁকাই তাদের মনের কথা প্রকাশের সবচেয়ে সহজ ভাষা।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আনিছুর রহমান বলেন, এই আয়োজন কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি আমাদের জাতির গৌরবগাঁথা ইতিহাসকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিল্প-চেতনায় জাগ্রত করার এক বিশেষ প্রয়াস।

তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তে লেখা স্বাধীনতার মহাকাব্য এবং চব্বিশের দ্রোহের আগুন- এই দুই সংগ্রামের ইতিহাসকে এক ক্যানভাসে তুলে ধরার সুযোগ করে দেওয়াই ছিল এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রতিযোগিতাটি দশম শ্রেণি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকলেও আগামী বছর থেকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আরও বৃহৎ পরিসরে এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights