বাংলাদেশের মানুষ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কথায় কষ্ট পেয়েছে: চরমোনাই পীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম চরমোনাই পীর পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আচরণে কষ্ট পাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কথায় কষ্ট পেয়েছে।

তিনি বলেন, ভারত এ দেশ স্বাধীন করেনি বরং ৭১ এ লাখো শহীদের জীবন ও রক্তের এদেশ স্বাধীন করেছে। কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসলামকে ক্ষমতায় নিয়ে ইসলাম নামক গাছটিকে মজবুত করতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। দুনিয়াতে শান্তি ও আখেরাতে মুক্তির নাম হলো ইসলাম।

বুধবার, বিকালে ঐতিহাসিক রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে অনুষ্ঠিত গণ সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসে হামলার প্রতিবাদ, ছাত্র জনতার গণবিপ্লবে সংগঠিত গণহত্যার বিচার, দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার-অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও তাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, সংখ্যানুপাতিক (পি.আর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন, ইহকালীন শাস্তি ও পরকালীন মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামী সমাজভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে গণ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রংপুর মহানগর সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। আর বক্তব্য রাখবেন রংপুর জেলা সভাপতি মুহাম্মাদ মাহমুদুর রহমান রিপন সরকার, রংপুর মহানগর সেক্রেটারী মুহাম্মাদ আমিরুজ্জামান পিয়াল, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ রংপুর মহানগর সভাপতি মাওলানা মোসলেম উদ্দীন জিহাদী, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ রংপুর মহানগর সভাপতি হাফেজ নুর মোহাম্মাদ জিহাদী, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আওলাদ হোসেন, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ রংপুর মহানগর সভাপতি মাওলানা জয়নাল আবেদীন ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ রংপুর মহানগর সভাপতি মোহাম্মাদ আবু রায়হান প্রমুখ।

পীর চরমোনাই বলেন, রংপুরের মানুষ বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে ব্যাপক সমর্থন দিয়ে সম্মানিত করে প্রমাণ করেছে রংপুরের মাটি ইসলামের ঘাঁটি। বাংলাদেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতে যারা ক্ষমতায় গেছে তারা কল্যাণ বা ভাগ্যের পরিবর্তনের চেয়ে নিজেদের কল্যাণে কাজ করেছে। তারা হাজার হাজার মায়ের কোল খালি করেছে। দেশকে ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। জুলাই আন্দোলনে ৫ শতাধিক মানুষের চোখ অন্ধ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার ক্ষমতা রাখে। আমাদের আর ধোঁকা দিয়ে বোকা বানানো যাবে না।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ রংপুরের সন্তান আবু সাঈদ ও মুগ্ধের কথা উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, রংপুরের সাহসী সন্তান আবু সাঈদ দুই হাত দুদিকে ছড়িয়ে বুক টান করে গুলি চালাতে আহ্বান জানানো এবং ‘পানি লাগবে পানি’ বলে ডাক দেয়ার দৃশ্য আমার চোখে ভাসছে। তাদের এই আত্মত্যাগকে আমরা কোনভাবেই বৃথা যেতে দিবো না। তাদের ত্যাগের বিনিময়ে আগামী দিনে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, যারা বাংলাদেশকে সিকিম বানাতে চায় তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হবে না। জুলাই আন্দোলনে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights