বাংলাদেশে বিয়ের ব্যাপারে নাগরিকদের সতর্ক করল চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনে ক্রমবর্ধমান কনে পাচার এবং বিয়ে-সংক্রান্ত জালিয়াতি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে অবস্থানরত ও ভ্রমণকারী নিজেদের নাগরিকদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছে ঢাকার চীনা দূতাবাস। অবৈধ ঘটকালি বা অননুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে কনে বা স্ত্রী খোঁজার বিষয়ে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো চীনা নাগরিক যদি মধ্যস্থতাকারী বা এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশে বিয়ে করতে আসেন, তবে তিনি মানব পাচারের দায়ে গ্রেফতার ও কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।

বাংলাদেশি আইন অনুযায়ী, মানব পাচারের অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীর ন্যূনতম সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় এই শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া পাচারের উদ্দেশ্যে প্ররোচনা দেওয়ার মতো অপেক্ষাকৃত কম অপরাধের জন্যও তিন থেকে সাত বছরের জেল এবং জরিমানার নিয়ম রয়েছে।

চীনা দূতাবাস তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে চীনা নাগরিকদের জড়িয়ে আন্তদেশীয় বিয়ে-সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রতারণা অনেক বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বিয়ে অবশ্যই পারস্পরিক সম্মতি ও সত্যিকারের ভালোবাসার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। কনে কেনার এই কালোবাজারি চূড়ান্ত পর্যায়ে আর্থিক ব্ল্যাকমেল এবং শারীরিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

চীনে সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক ঘটকালি বা বিয়ের ব্যবসা নিষিদ্ধ হলেও দেশটির তীব্র লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে এই কালোবাজারি রমরমিয়ে চলছে। ২০২০ সালের জাতীয় আদমশুমারি অনুযায়ী, চীনে বিয়ের বয়সী পুরুষের সংখ্যা নারীদের তুলনায় প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ বেশি। এই বিপুলসংখ্যক অবিবাহিত পুরুষের চাহিদাকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্র। বেইজিং এখন একদিকে যেমন বিদেশি নারীদের এই পাচার চক্রের হাত থেকে রক্ষা করতে চাইছে, অন্যদিকে বিয়ের নামে লাখ লাখ টাকা খুইয়ে প্রতারিত হওয়া থেকে নিজেদের নাগরিকদের বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।

এর আগে ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, লাওস, পাকিস্তান ও নেপালের চীনা দূতাবাসগুলোও একই ধরনের সতর্কবার্তা জারি করেছিল। শুধু সতর্কতাই নয়, মানব পাচার ও ভুয়া বিয়ের চক্র রুখতে চীন নিজের দেশের ভেতরেও সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি মানুষকে এই সংক্রান্ত অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু অভিযানে দেখা গেছে, বিপুল অর্থ দিয়ে বিদেশি কনে বিয়ে করার পর তারা কিছুদিনের মধ্যে নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে নারীদের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক পাচার করে চীনা পুরুষদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাদাগাস্কার ও মিয়ানমারকেন্দ্রিক একাধিক বড় পাচারকারী চক্রকে ইতিমধ্যে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, গ্লোবাল টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights