বাংলাদেশ ছাড়া ইডেনে হাহাকার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে স্কটল্যান্ড নয়, চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলত। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে গতকাল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিপক্ষ হয়ে খেলতেন লিটন দাস, মুস্তাফিজুর রহমানরা। সেটা হয়নি। নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। ২০ দলের টি-২০ বিশ্বকাপ মাঠে গড়িয়েছে বাংলাদেশকে ছাড়াই। ‘নন্দনকানন’ ইডেনে হঠাৎ সুযোগ পাওয়া স্কটল্যান্ডকে ৩৫ রানে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চলতি আসরের দ্বিতীয় ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসের রঙিন পাতায় নিজের নাম লেখেন ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলার রোমারিও শেফার্ড। এক ওভারে হ্যাটট্রিকসহ ৪ উইকেট নিয়েছেন ক্যারিবীয় ডানহাতি এ ফাস্ট বোলার। ম্যাচ শেষে শেফার্ডের বোলিং স্পেল ৪-০-২০-৫। ম্যাচে আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টি-২০ বিশ্বকাপে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন শিমরন হেটমায়ার। তিনি ২২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন। আগের রেকর্ড ছিল ক্রিস গেইলের, ২৩ বলে। রেকর্ড গড়া ম্যাচে ৬৫ হাজার আসনের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৩ হাজারের ওপর। দর্শকের জন্য হাহাকার করছে গ্যালারি। শুধু গতকালের ম্যাচ নয়, বাংলাদেশ না খেলায় পরের ম্যাচগুলোতেও দর্শকের জন্য হাহাকার করছে ভারতের সবচেয়ে পুরোনো স্টেডিয়াম ইডেন গার্ডেন।

১৯৭৫ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু। বাংলাদেশ নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলছে ১৯৯৯ সাল থেকে। এরপর থেকে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলেছে। টি-২০ বিশ্বকাপ শুরু ২০০৭ সালে। প্রথম আসর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৯টি আসরে নিয়মিত খেলেছে। এবার খেলছে না নিরাপত্তার জন্য। বাংলাদেশ খেলছে না মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ৩ জানুয়ারি আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পরের দিন টি-২০ বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। লিটনদের না খেলার সিদ্ধান্তে আইসিসি স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে। আগের সূচিতে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের ভেন্যু ছিল কলকাতা এবং নেপাল ম্যাচের ভেন্যু ছিল মুম্বাই। কলকাতায় টাইগারদের প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও ইতালি। ১৯৯৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ওয়ানডে ও টি-২০ বিশ্বকাপের সব আসর খেলা বাংলাদেশ এবার দর্শক।

কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনায়াশেই জিতেছে শেফার্ডের হ্যাটট্রিক ও হেটমায়ারের দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ডে। প্রথম ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮২ রান করে। দুই ওপেনার ব্রেন্ডন কিং ও অধিনায়ক শাই হোপ ৬ ওভারের পাওয়ার প্লেতে ৩৩ রান করেন। সপ্তম ওভারে ১৭ রান নিয়ে রানের চাকা দ্রুত সচল করে ক্যারিবীয়রা। কিং ৩৫ রান করেন ৩০ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায়। হোপ ধীরলয়ের ব্যাটিংয়ে ২২ বলে ২ চারে ১৫ রান করেন। নবম ওভারে হেটমায়ার নামলে রানের চাকা সচল হয়। তিনি উইকেটের চারদিকে স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছোটালে ক্যারিবীয়রা শেষ দিকে বড় স্কোর গড়ে। ১০০ রান করে ১২.২ ওভারে। শেষ ৮২ রান করেন ৪৬ বলে। এর মধ্যে ম্যাচসেরা হেটমায়ার ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলে ৩৬ বলে ৬৪ রান করেন ২ চার ও ৬ ছক্কায়। হেটমায়ার ৫০ রান করেন ২০ বলে। যা টি-২০ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের যেকোনো ব্যাটারের দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি। আগের দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি ছিল গেইলের, ২৩ বলে।

১৮৩ রানের টার্গেটে ভালোই জবাব দিচ্ছিল স্কটিশরা। এক পর্যায়ে ১৪ ওভারে ৫ উইকেটে ১২০ রান করে। ১৭তম ওভারে এসেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শেফার্ড। ওভারের প্রথম বলে উইকেট না পেলেও পরের ৩ বলে টানা উইকটে নিয়ে হ্যাটট্রিক করেন। পঞ্চম বলে উইকেট পাননি। ষষ্ঠ বলে ফের উইকেট নেন শেফার্ড। টি-২০ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। ২০২৪ সালে উগান্ডার বিপক্ষে আকিল হোসেন হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ১১ রানে। শেফার্ড এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন গত অক্টোবরে। ইতিহাসের অষ্টম বোলার হিসেবে টি-২০ ক্রিকেটে একাধিক হ্যাটট্রিকের অধিকারী শেফার্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights