বাংলাদেশ সিরিজ দিয়ে ১৫ বছর পর যে কঠোর সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্ট দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে চোখে পড়ার মতো একটি পরিবর্তন দেখা গেল। ১৫ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো বাউন্ডারি দড়িতে কোনো বেটিং প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ছাড়াই মাঠে নামল অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে বেটিং কোম্পানির সঙ্গে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই এই পরিবর্তন এসেছে। ২০১২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে অংশীদারত্ব ছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্ট শুরুর আগে মারারা স্টেডিয়ামের বাউন্ডারি দড়িতে বেটিং কোম্পানির পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার টয়োটার বিজ্ঞাপন দেখা যায়।
২০০০-এর দশকের শেষ দিকে বেটফেয়ারের মাধ্যমে ক্রিকেটের সঙ্গে বেটিং প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম বড় কোনো বেটিং স্পন্সর ছাড়া থাকছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
এ বিষয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক মুখপাত্র বলেন, মৌসুমজুড়ে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সম্পদের জন্য তারা ভিন্ন ভিন্ন চুক্তি করে। ডারউইন ও ম্যাকাইতে টেস্টের বাউন্ডারি দড়ির অংশীদার হিসেবে টয়োটার সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সরকার গত জুলাইয়ে জুয়া-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ আইনি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। তবে সেগুলো এখনো ফেডারেল পার্লামেন্টে পাস হয়নি।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় জার্সি ও স্টেডিয়ামে বেটিং বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ক্রীড়া সংস্থা ও বেটিং অংশীদার তাদের বিজ্ঞাপনী উপস্থিতি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
এর আগে এপ্রিল মাসে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আলবানিজ বলেছিলেন, প্রাপ্তবয়স্করা চাইলে বাজি ধরতে পারবেন। তবে শিশুরা যেন যেদিকেই তাকায় সেদিকেই বেটিং বিজ্ঞাপন দেখতে না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের কাছে খেলাধুলা ও জুয়াকে অবিচ্ছেদ্য হিসেবে উপস্থাপন না করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জুয়া-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় বেটিং প্রতিষ্ঠানের টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের সংখ্যা সর্বোচ্চ তিনটিতে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাবও রয়েছে।
এদিকে বিগ ব্যাশ লিগ ও উইমেনস বিগ ব্যাশ লিগ চালুর পর থেকেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বেটিং প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে টুর্নামেন্ট বা দল স্পন্সর করার কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। কারণ টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতাগুলো মূলত শিশু ও পরিবারকেন্দ্রিক দর্শকদের লক্ষ্য করে আয়োজন করা হয়।
এ ছাড়া ক্রিকেটে বেটিংয়ের সুযোগ নিয়েও কড়াকড়ি রয়েছে। বেটিং কোম্পানিগুলো ক্রিকেটে যে পরিমাণ লাইভ বা ইন-প্লে বেটিংয়ের সুযোগ দিতে পারে, সেটিও কঠোরভাবে সীমিত করেছে ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ।
