বাঘিয়ার বিলে ফিরল নৌকাবাইচ
বেলাল রিজভী, মাদারীপুর
বিলের পানিতে তখন টলমল রোদ। দুই পারে মানুষের ঢল। কারও চোখ পানিতে ছুটে চলা নৌকায়, কারও হাতে মোবাইল ফোনে মুহূর্তটি ধরে রাখার ব্যস্ততা। হঠাৎ ঢোলের তালে তালে ভেসে এলো জারি গানের সুর। এরপরই বদলে যায় বাঘিয়ার বিলের চেনা দৃশ্য। বৈঠার ছন্দে পানিকে কেটে ছুটতে শুরু করে একের পর এক বাচাড়ি নৌকা। এভাবেই শুরু হয়ে যায় গ্রামবাংলার চিরচেনা নৌকাবাইচ। গত শনিবার বিকালে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের পাখুল্লা বাঘিয়ার বিলে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচ। পাখুল্লা সিরাজকাঠি যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতাকে ঘিরে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ। বিকাল গড়াতেই বিলের দুই পার ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে থাকেন হাজারো মানুষ। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ১০টিরও বেশি দল। নৌকাবাইচ শুরু হতেই বদলে যায় পুরো পরিবেশ। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের চোখ তখন প্রতিযোগী নৌকাগুলোর দিকে। বৈঠার প্রতিটি টানে নৌকা যত দ্রুত সামনে এগিয়ে যায়, ততই বাড়তে থাকে দর্শকের করতালি আর উচ্ছ্বাস। শুধু বিলের পারেই নয়, প্রতিযোগিতা দেখতে বিলের পানিতেও ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। ছোট ছোট নৌকায় নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সি মানুষ জায়গা নেন। কেউ প্রিয় দলের জন্য উৎসাহ দেন, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ধারণ করেন নৌকাবাইচের দুর্লভ মুহূর্ত। সব মিলিয়ে বাঘিয়ার বিল পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি ফ্রিজ তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া পরবর্তী স্থান অর্জনকারী দলগুলোর মধ্যে পাঁচটি এলইডি টিভি ও পাঁচটি মোবাইল ফোন পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করা হয়। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে। ধীরে ধীরে ফাঁকা হতে থাকে বাঘিয়ার বিলের পার। কিন্তু পানিতে বৈঠার সেই ছন্দ, ঢোলের শব্দ আর হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস যেন রেখে যায় গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা এক চিরচেনা দিনের স্মৃতি।
