বাড়ছে মাদকের ভয়াবহতা : ভারতের তৈরি ওষুধে আফ্রিকায় নতুন সংকট

অনলাইন ডেস্ক
ভারতের কিছু ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির তৈরি শক্তিশালী ওপিওইড ওষুধ আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ মাদকের ভয়াবহতাকে আরও তীব্র করছে। যে কারণে এই অঞ্চলে ওপিওইড সংকট তীব্র হচ্ছে। নতুন এক আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত থেকে উৎপাদিত ও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ট্যাপেন্টাডল নামের ব্যথানাশক ওষুধ কোটি কোটি ডলারের মূল্যে পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এই ওষুধগুলো অনেক ক্ষেত্রে বৈধ চিকিৎসা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে অবৈধভাবে বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব শক্তিশালী ওষুধ পরে আফ্রিকায় প্রচলিত ভয়ংকর মাদক ‘কুশ’ এর সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই মিশ্রণকে স্থানীয়ভাবে ‘জম্বি ড্রাগ’ বলা হচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের দ্রুত আসক্তি ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে- এই মাদক সংকটের কারণে নাইজেরিয়া, সিয়েরা লিওন ও ঘানার মতো দেশে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক আসক্তি এবং অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।

সিয়েরা লিওনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মাদকের কারণে বহু মানুষ রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকছে এবং অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। কিছু এলাকায় পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে ভর্তি হওয়া রোগীদের বড় অংশই এই ধরনের ওপিওইড ও কুশ মিশ্র মাদক গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।

ভারত সরকার আগেই কিছু ওপিওইড মিশ্রণ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ও কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। তবে অনুসন্ধান বলছে, শুধুমাত্র পৃথক ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট রপ্তানির মাধ্যমে এই বাজার এখনও সক্রিয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি এই ধরনের ওষুধের অবৈধ প্রবাহ বন্ধ না করা যায়, তাহলে আফ্রিকার ওপিওইড সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হতে পারে।

ভারতের কিছু ফার্মা কোম্পানির উৎপাদিত ওপিওইড আফ্রিকায় অবৈধভাবে ছড়িয়ে পড়ছে এবং তা ভয়ংকর ‘জম্বি ড্রাগ’ সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে- যা এখন আন্তর্জাতিকভাবে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্য সূত্র- দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights