জুবায়েদ হত্যাকাণ্ডে দ্রুত বিচার দাবিতে জবি শিক্ষক সমিতির সংবাদ সম্মেলন ‎

‎রাকিব মাজহার, জবি প্রতিনিধি :
‎
‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের (১৫তম ব্যাচ) মেধাবী শিক্ষার্থী শহিদ মো. জুবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
‎
‎বুধবার (২২ অক্টোবর ২০২৫) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহিদ রফিক ভবনের সম্মুখ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে ছয় দফা প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করা হয়।
‎
‎সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন। তিনি বলেন,
‎
‎“জুবায়েদ হত্যাকাণ্ডের তিন দিনের মাথায় চিহ্নিত আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করায় আমরা পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে আশা করি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীর দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”
‎
‎
‎
‎তিনি আরও জানান, নিহত জুবায়েদের পরিবার গ্রাম থেকে এসে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন আইনজীবী নিয়োগ করে পরিবারটিকে সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‎
‎এরপর তিনি পুলিশ প্রশাসন, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন।
‎
‎
‎ঘটনাদিনে বর্ষা নিজেই জুবায়েদকে ফোন করে তার অবস্থান জানে এবং মোবাইল ট্র্যাক করে। কিন্তু কেন এটি এজাহারে অন্তর্ভুক্ত হয়নি— তা তদন্তে পরিষ্কার করতে হবে।
‎
‎ফুটেজে দেখা গেছে, দুজন খুনি কালো ও হলুদ টি-শার্ট পরেছিল। পুলিশ কি আসামিদের পোশাক জব্দ করেছে এবং তার ফরেনসিক প্রতিবেদন কবে পাওয়া যাবে— সে বিষয়ে প্রশাসনের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
‎
‎হত্যাকাণ্ডের সময় ধস্তাধস্তি ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সেক্ষেত্রে বিল্ডিংয়ের বাসিন্দাদের কেউ কি সাক্ষ্য দিয়েছেন বা জিজ্ঞাসাবাদে আনা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
‎
‎বর্ষার পরিবার তার সম্পর্ক সম্পর্কে জানত কি না এবং জানলে তাদের ভূমিকা কী ছিল— সেটি তদন্তে আনা জরুরি।
‎
‎জুবায়েদ শারীরিকভাবে আসামী মাহিরের তুলনায় শক্তিশালী ছিলেন। তাহলে মাহির কীভাবে এক কোপে হত্যা করল? এটি কি পেশাদার খুনির কাজ, নাকি মাহিরকে ব্যবহার করে মূল খুনিকে আড়াল করা হচ্ছে— সে প্রশ্নও ওঠে।
‎
‎হত্যাকাণ্ডটি বর্ষার নিজ বাসায় সংঘটিত হওয়া স্বাভাবিক নয়— এটি পরিকল্পিত হত্যার ইঙ্গিত বহন করে। বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধানের দাবি জানান তিনি।
‎
‎অধ্যাপক ড. রইছ উদ্‌দীন বলেন,
‎“আমরা পুলিশের পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বশীল মহলের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর যথাযথ তদন্ত ও জবাব নিশ্চিত করে যেন জুবায়েদ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।”
‎
‎
‎
‎সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights