বালিয়াকান্দিতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ১

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি থানার তেতুলিয়া গ্রামের মিনু বেগম (২৭) নামের এক গৃহবধূকে হত্যা করা হয়। গত ১৯ আগস্ট নিহতের স্বামী উজ্জ্বল শেখের বাড়ির টয়লেটের সেফটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে মিনু বেগমের শাশুড়ি জোহরা বেগম (৪৭)কে গ্রেফতার করে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ সুপার জি. এম. আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ১০ বছর পূর্বে তেতুলিয়া গ্রামের মো. কুদ্দুস শেখের ছেলে উজ্জল শেখের (৩০) মিনুর বিবাহ হয়। উজ্জ্বল মেখ ফরিদপুর জেলার একটি জুটমিলে কাজ করতেন। বিবাহরে পর মিনুর গর্ভে সন্তান না আসায় তার স্বামী উজ্জ্বল শেখ দ্বিতীয় বিবাহ করেন। ৫ আগস্ট রাতে মিনু বেগমের স্বামী কর্মস্থল থেকে বাড়িতে আসেন। এরপর স্ত্রীর সাথে মোবাইল নিয়ে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে মিনু বেগমকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। হত্যার পর পাশের রুমে তার বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী এবং নানী শাশুড়িকে ডেকে তোলেন। ততক্ষণে মিনু বেগম আর বেঁচে নেই।
ছেলেকে আইনে হাত থেকে বাঁচানোর জন্য উজ্জ্বল শেখের বাবা নিজ বাড়ির টয়লেটের সেফটিক ট্যাংকের ভেতর লাশ গুম করার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনার হিসেবে টয়লেটের সেফটিক ট্যাংকের ভেতরে উজ্জ্বল শেখ, শাশুড়ি জোহরা বেগম ও শ্বশুর মো. কুদ্দুস শেখ মিনুর মরদেহ টয়লেটের ভেতর ফেলে দেয়। হত্যায় দায় থেকে ছেলেকে বাঁচাতে মিনুর শ্বশুরের পরিকল্পনায় বালিয়াকান্দি থানায় একটি নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এলাকায় জানিয়ে দেন তার পুত্রবধূ অন্য একজনের সাথে পালিয়ে গিয়েছে।

শনিবার দুপুরে সেফটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মিনুর মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, মিনু হত্যার প্রধান আসামি উজ্জ্বল শেখকে র‌্যাব গ্রেফতার করেছে। নিহতের শ্বশুরকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights