বাহারি ফুলের বর্ণিল উৎসব
বিস্তৃত পরিসরের ডিসি পার্ক। পার্কের ছায়াঘেরা একটি আঙিনা। চলছে আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলা। এখানেই তৈরি করা হয়েছে একটি শেড। সেখানে ফোটানো হয়েছে বিদেশি টিউলিপ। টিউলিপের কলিগুলো দিচ্ছে উঁকি। লাল, হলুদ, গোলাপি, সাদা রঙের টিউলিপ শোভা ছড়াচ্ছে। সঙ্গে আছে লাল-হলুদের মিশ্রণের টিউলিপ। এখানে সুগন্ধ ছড়াচ্ছে ১৫ জাতের টিউলিপ।
এমন সব বর্ণিল এবং দৃষ্টিনন্দন বাহারি ১২৭ প্রজাতির ফুল নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রমী ফুল উৎসব। গত বৃহস্পতিবার মাসব্যাপী ফুল উৎসব উদ্বোধন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার ফৌজদার হাট এলাকায় ১৯৪ একর জায়গায় গড়ে ওঠা ডিসি পার্কে চলছে ফুল উৎসব।
উৎসবে নান্দনিক অনুষঙ্গের মধ্যে আছে- সানসেট ভিউ পয়েন্ট, মাসব্যাপী ২০০টি চিত্র প্রদর্শনী, নৌকা প্রদর্শনী, সাম্পান বাইচ, স্যুভেনির শপ, ভায়োলিন-শো, ঘুড়ি উৎসব, কবুতর শেড, কিডস জোন, পিডিওন কর্নার, সেলফি কর্নার, পুতুলনাচ, ২-৯ ফেব্রুয়ারি পিঠা উৎসব ও ১৪-২০ ফেব্রুয়ারি বই উৎসব। প্রতি সন্ধ্যায় থাকবে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো ফুল উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবকে নতুন করে রাঙাতে যোগ করা হয়েছে নানা বর্ণিল অনুষঙ্গ। চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্যকে উপজীব্য করেই সাজানো হয়েছে অনুষঙ্গগুলো। থাকবে নান্দনিক আকারের ১৫টি নৌকা প্রদর্শনী, সঙ্গে সাম্পান উৎসব। ১০০ চিত্রশিল্প তাদের নিজস্ব শিল্পকর্মগুলো উপস্থাপন করবে। থাকছে ঘুড়ি ও পিঠা উৎসব।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাকিব হাসান বলেন, মাদকের একটি রাজ্যকে ফুলের রাজ্যে পরিণত করা হয়েছে। এই ফুলের রাজ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ফুল উৎসব করা হচ্ছে। মেলায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পছন্দ হয় এমন সব অনুষঙ্গ যোগ করা হচ্ছে। আশা করি, পড়ন্ত বিকালের এক মুঠো রোদ্দুরের ছোঁয়া উপভোগ করতে পারবেন দর্শক।
