বিগত সময়ে দেশে সত্য লেখা ও বলা ছিলো অপরাধ: কাদের গনি চৌধুরী
অনলাইন ডেস্ক
বিগত ১৫ বছর দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, ওই সময় সত্য লেখা ও বলা ছিল অপরাধ। তখন ৬৪ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়। অসংখ্য সাংবাদিককে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়। শত শত সাংবাদিক বাধ্য হয়ে পেশা বদল করেন। রবিবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি পার্টি হলে এনটিভি পরিবারের আয়োজনে নিউইয়র্কে কর্মরত ও জাতিসংঘ অধিবেশন কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক নেতা কাদের গনি
চৌধুরী এসব কথা বলেন। সাংবাদিক ফরিদ আলমের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনটিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক আলী, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ও ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বাদল।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, দেশ এখন ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। আমরা চাই দেশে যেন আর গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরা না হয়। আমরা ভোটাধিকার চাই। জনগণকে দেশের মালিকানা ফেরত দেওয়া হোক। বিদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা হোক। লুটেরাদের বিচার করা হোক।
এনটিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক আলী বলেন, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে এখন সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে ড. ইউনূস সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে সহায়তা করতে সব মহলের প্রতি তিনি আহবান জানান। তিনি বলেন, দেশে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্র-জনতার অসীম ত্যাগে এ অর্জন কিছুতেই ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না।
বিগত সরকারের সময় তারা কীভাবে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন, সভায় সেসব কথা তুলে ধরেন মোসাদ্দেক আলী ও লুৎফর রহমান বাদল।
মোসাদ্দেক আলী বলেন, দেশের নাগরিক হয়েও দীর্ঘদিন আমাদের দেশে থাকতে দেয়া হয়নি। দেশের বাইরে থাকা কতটা কষ্টকর, তা টের পেয়েছি। শুধু ভিন্নমত পোষণের কারণে আমাকে বাধ্য করা হয়েছে দেশের বাইরে থাকতে। একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে সকল সাংবাদিক অন্যায় করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু সেটা যাচাই-বাছাই করে যেন হয়। আমরা আর কোনো অবিচার চাই না।
মতবিনিময় সভায় নিউইয়র্ক ও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বহু সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। এর আগে এনটিভির বর্তমান ও সাবেক সহকর্মীরা মোসাদ্দেক আলীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকেও তার হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেয়া হয়।
