বিলে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প, ভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের পথ খুলল

অনলাইন ডেস্ক

রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিলে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এতে বড় রুশ জ্বালানি আমদানিকারক ভারত ও চীন নতুন করে মার্কিন শুল্কের ঝুঁকিতে পড়েছে।

‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের এই আইনের লক্ষ্য হলো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে রাশিয়াকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার সুযোগ কমিয়ে দেওয়া। এতে রুশ কর্মকর্তা, ব্যাংক, জ্বালানি খাত এবং মস্কোর সামরিক কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার বিধান রাখা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয় গত ১৬ সেপ্টেম্বর। দুই দিন পর অর্থাৎ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প বিলে স্বাক্ষর করে এটিকে আইনে পরিণত করেন। বিলটি মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে করা হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের অন্যতম জোরালো সমর্থক গ্রাহাম চলতি বছরের জুলাইয়ে কিয়েভ সফর শেষে ফেরার কিছুদিন পর মারা যান।

রাশিয়ার পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ শুল্ক

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটির তথ্য অনুযায়ী, নতুন আইনে রাশিয়ার পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে। এসব বিধান মূলত বড় রুশ জ্বালানি আমদানিকারক এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল বাণিজ্যে সহায়তাকারী দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার বিধান রাখা হয়েছে।

ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে

নতুন আইনের ফলে ভারতও মার্কিন শুল্কের ঝুঁকিতে পড়েছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান স্টেনি হোয়ারের উত্থাপিত একটি সংশোধনীতে চীন, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, হাঙ্গেরি, কিরগিজস্তান ও স্লোভাকিয়াকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের আওতায় আনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে ওই সংশোধনীর মাধ্যমে ভারতের ওপর সরাসরি ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়নি। ট্রাম্প তার ক্ষমতা প্রয়োগ করলে ভবিষ্যতে ভারতের ওপর এ ধরনের শুল্ক আরোপ করতে পারেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা বর্তমান ১০ শতাংশ শুল্কের অতিরিক্ত হবে। তবে নতুন শুল্কের সুনির্দিষ্ট হার ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় রপ্তানিতে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

গত বছর রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনাকে কেন্দ্র করে দিল্লি-ওয়াশিংটনের বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। সে সময় রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর সঙ্গে আগে থেকেই থাকা ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কও ছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অতিরিক্ত শুল্ক তুলে নেওয়া হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়।

ভারতের অবস্থান

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিল মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়ার পর ভারত জানিয়েছিল, নিজেদের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য পূরণে বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে নয়াদিল্লি।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের তেল বাণিজ্য নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। এ বাণিজ্যের সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপরও পড়তে পারে—এ বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

এদিকে, বিলটির বেশিরভাগ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা সমর্থন করলেও দলের অনেক নেতা ব্যক্তিগতভাবে বিল থেকে নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে সিএনএনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা ছিল, নতুন শুল্কের কারণে পণ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights