বিশাল জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক

আগের দিন নিউজিল্যান্ডের লড়াই দেখে হয়তো আশান্বিত হয়েছিলেন অনেকেই। চতুর্থ দিন সকালেই তাই বেসিন রিজার্ভের গ্যালারি ভরে উঠল প্রায়। কিন্তু তাদের আশায় গুঁড়েবালি। ম্যাচ শেষ লাঞ্চের আগেই! যাকে ঘিরে ছিল নিউজিল্যান্ডের মূল শঙ্কা আর অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাবনা, সেই ন্যাথান লায়নই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠলেন নায়ক। দুর্দান্ত বোলিংয়ের প্রদর্শনীতে এই অফ স্পিনার বিধ্বস্ত করে দিলেন কিউই ব্যাটিং।

ওয়েলিংটন টেস্টে নিউজিল্যান্ডকে ১৭২ রানে উড়িয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। রবিবার (০৩ মার্চ) টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাটে-বলে লড়াই করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। দিন শেষে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল ২৫৮ রান, দারুণ এক ফিফটি করে উইকেটে ছিলেন রাচিন রাভিন্দ্রা। অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। সব মিলিয়ে রোমাঞ্চের উপকরণ ছিল মজুদ।

তবে বেসিন রিজার্ভে শুরুতে পেস সহায়ক উইকেট পরে যেভাবে বদলে গিয়েছিল, তৃতীয় দিনে যেরকম টার্ন ও বাউন্স মিলছিল, তাতে লায়নের সম্ভাব্য ভূমিকাও ছিল অনুমিত। তিনিই শেষ পর্যন্ত গড়ে দিলেন ব্যবধান। চতুর্থ দিনে রোববার এক সেশনও টিকতে পারল না কিউইরা।
প্রথম ইনিংসে সবুজ উইকেটেও চার উইকেট নিয়েছিলেন লায়ন। দ্বিতীয় ইনিংসে সহায়ক উইকেটে তার শিকার ছয়টি। সব মিলিয়ে ম্যাচে তার প্রাপ্তি ১০৮ রানে ১০ উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে পঞ্চমবার পেলেন তিনি ম্যাচে ১০ উইকেটের স্বাদ। নিউজিল্যান্ডে কোনো স্পিনার এক ম্যাচে ১০ উইকেট সবশেষ পেয়েছিলেন ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে। এই মাঠেই সেই টেস্টে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেটোরি ও শ্রীলঙ্কার মুত্তাইয়া মুরালিদারান।

রবিবার সকালে প্রথম ৬ ওভার নিরাপদে কাটাতে পারেন রাভিন্দ্রা ও ড্যারিল মিচেল। এরপরই লায়নের হানা। রাভিন্দ্রার জন্য পয়েন্ট ও গালিতে ঠেসে ফিল্ডার রেখে বোলিং করছিলেন তিনি। সেই পরিকল্পনাই কাজে দেয়। বলটি যদিও দারুণ কিছু ছিল না। অফ স্টাম্পের বাইরে খাটো লেংথের বল কাট করার চেষ্টায় পয়েন্টে সহজ ক্যাচ তুলে দেন ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান। আগের দিনের ৫৬ রানের সঙ্গে আর কেবল ৩ রান যোগ করতে পারেন তিনি।

লায়নের ওই ওভারেই শূন্য রানে বিদায় নেন নতুন ব্যাটসম্যান টম ব্লান্ডেল। এর পরের ওভারে দারুণ এক ডেলিভারিতে গ্লেন ফিলিপসকেও এলবিডব্লিউ করে লায়ন পূর্ণ করেন ৫ উইকেট। নিউ জিল্যান্ডের সম্ভাবনা বা স্বপ্ন, সবই ততক্ষণে চূর্ণ। পেস বোলার স্কট কুগেলাইন ক্রিজে গিয়ে দর্শকদের কিছু বিনোদন দিয়ে চারটি চারে ২৬ রান করেন। তাকে ফেরান ক্যামেরন গ্রিন। দুই চার ও ১ ছক্কায় ১৪ রান করা ম্যাট হেনরিকে থামান জশ হেইজেলউড। টিম সাউদিকে বিদায় করে লায়ন ধরেন ম্যাচে তার দশম শিকার।

উইকেট পতনের এই মিছিলে একটা প্রান্ত আঁকড়ে ছিলেন ড্যারিল মিচেল। প্রথম বাউন্ডারি মারেন তিনি ৮২ বল খেলে, দ্বিতীয়টি একশ বল পেরিয়ে। শেষ পর্যন্ত তাকে আউট করেই ম্যাচ শেষ করেন হেইজেলউড। ১৩০ বল খেলে ৩৮ রান করতে পারেন মিচেল। ১০ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১ রান করে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন লায়ন। তবে ম্যান অব দা ম্যাচ ক্যামেরন গ্রিন। বোলিং সহায়ক উইকেটে প্রথম ইনিংসে তার ১৭৪ রানের ইনিংসই যে ম্যাচে গড়ে দিয়েছে মূল ব্যবধান! দ্বিতীয় ইনিংসেও করেছেন তিনি ৩৮ রান, নিয়েছেন একটি উইকেট। সিরিজের শেষ টেস্ট ক্রাইস্টচার্চে আগামী শুক্রবার থেকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৩৮৩ ।

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৭৯

অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ১৬৪

নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৩৬৯, আগের দিন ১১১/৩) ৬৪.৪ ওভারে ১৯৬ (ল্যাথাম ৮, ইয়াং ১৫, উইলিয়ামসন ৯, রাভিন্দ্রা ৫৯, মিচেল ৩৮, ব্লান্ডেল ০, ফিলিপস ১, কুগেলাইন ২৬, হেনরি ১৪, সাউদি ৭, ও’রোক ০*; স্টার্ক ৯-৩-২৯-০, হেইজেলউড ৯.৪-২-২০-২, লায়ন ২৭-৮-৬৫-৬, কামিন্স ১২-১-৪০-০, হেড ৪-১-১০-১, গ্রিন ৩-০-১৬-১)।

ফল: অস্ট্রেলিয়া ১৭২ রানে জয়ী।

সিরিজ: ২ ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ১-০তে এগিয়ে।

ম্যান অব দা ম্যাচ: ন্যাথান লায়ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights