বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে ইরানকে নিষিদ্ধের দাবিতে লস অ্যাঞ্জেলসে বিক্ষোভ
স্পোর্টস ডেস্ক
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে ইরানের অংশগ্রহণ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলসে ইরানি-আমেরিকান মানবাধিকারকর্মী ও কয়েকজন সাবেক ফুটবলারের নেতৃত্বে বিক্ষোভ হয়েছে, যেখানে ফিফার কাছে ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়।
বুধবার লস অ্যাঞ্জেলস সিটি হলের সামনে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের দাবি, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে ইরান সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে পারবে, যদিও দেশের ভেতরের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২১ বছর বয়সী ইরানি-আমেরিকান রায়ান সালামি বলেন, ‘ইরানকে খেলতে দিলে বাইরের বিশ্বের কাছে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে দমন-পীড়ন, সহিংসতা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।’
প্রতিবাদকারীরা এমন অনেক ক্রীড়াবিদের ছবি প্রদর্শন করেন, যাদের সরকারবিরোধী অবস্থানের কারণে নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করা হয়। কয়েকজন সাবেক জাতীয় দলের ফুটবলারও বিক্ষোভে অংশ নেন এবং নিপীড়িত ক্রীড়াবিদদের প্রতি সংহতি জানান।
ইরানের সাবেক ফুটবলার আসগর আদিবি বর্তমান জাতীয় দলকে কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘এটি সাধারণ মানুষের দল নয়, বরং শাসকগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দল।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলের ওপর ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডস কর্পসের (IRGC) প্রভাব রয়েছে।
তবে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে মতপার্থক্যও দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করেন, অনেক খেলোয়াড় পরিস্থিতির কারণে প্রকাশ্যে মত দিতে পারেন না। অন্যদের মতে, জাতীয় দলে জায়গা পেতে সরকারের প্রতি আনুগত্য দেখানো জরুরি হয়ে পড়ে।
বিক্ষোভ শেষে অংশগ্রহণকারীরা মিছিল করেন এবং ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিও জানান। পাশাপাশি বিশ্বকাপ থেকে ইরানকে বাদ দেওয়ার দাবি আরও জোরালো করা হয়। যদিও এ বিষয়ে এখনো ফিফা বা ইরান জাতীয় দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভকারীদের একাংশ জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন ইরানের ম্যাচে তারা ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পূর্ব সিংহ ও সূর্য প্রতীকযুক্ত পুরনো জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের চেষ্টা করবেন, যদিও সেটি বর্তমানে নিষিদ্ধ।
আগামী মঙ্গলবার লস অ্যাঞ্জেলসে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে ইরান।
সূত্র: সিএনএ
