বিশ্বকাপের আগে দুরন্ত ব্রাজিল
ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের দামামা বাজার আগে যে ব্রাজিল ডুবেছিল একরাশ উদাসীনতায়, সেই পেলের দেশেই এখন আবার চেনা উন্মাদনার জোয়ার। নানা জল্পনা আর সমালোচনার মেঘ উড়িয়ে দিয়ে মাঠের ফুটবলে দুরন্ত ছন্দে ফিরেছে সেলেকাওরা। ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির স্পর্শে ‘হেক্সা’ মিশনের প্রস্তুতিটা রাজকীয়ভাবেই করলেন তার শিষ্যরা। গতকাল রিও ডি জেনেরিওর মারাকানা স্টেডিয়ামে পানামাকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বজয়ের হুংকার ছেড়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বিশ্বকাপের আগে এমন আশা জাগানিয়া প্রত্যাবর্তনে সমর্থকদের প্রত্যাশাও বাড়িয়ে দিল আনচেলত্তির দল। ম্যাচের শুরু থেকেই মারাকানার সবুজ গালিচায় যেন চলল শৈল্পিক সাম্বা প্রদর্শনী। বাঁশি বাজার ঠিক প্রথম মিনিটেই অধিনায়ক কাসেমিরোর পাস থেকে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন রিয়াল তারকা ভিনিসাস জুনিয়র। তবে ১৩ মিনিটে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ম্যাচে ফেরে পানামা। মাইকেল মুরিলোর ফ্রি-কিক ব্রাজিলের ম্যাথিউস কুনিয়ার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলে তা আত্মঘাতী গোলে রূপ নেয়। অবশ্য ৩৮ মিনিটেই আবার লিড নেয় স্বাগতিকরা। এবার ভিনিসাসের ক্রস থেকে দর্শনীয় হেডে গোল উৎসবের রং বাড়িয়ে দেন কাসেমিরো। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্রাজিল। প্রথমার্ধের খেলায় কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে মাঠজুড়ে দেখা যায় অনন্য এক সুরের মূর্ছনা। বিরতির পর ডিফেন্ডার লিও পেরেইরা ছাড়া বাকি ১০ জনকেই বদলে ফেলেন আনচেলত্তি, ফরমেশন সাজান ৪-৩-৩-এ। আর তাতেই ফোটে গোলের ফুলঝুরি। দ্বিতীয়ার্ধের বাকি চারটি গোল আসে লুকাস পাকেতা, হায়ান, ইগো চিয়াগো ও দানিলো সান্তোসের পা থেকে। পানামার হয়ে দ্বিতীয় গোলটি শোধ করেন কার্লোস হার্ভে। তবে এদিন ম্যাচের আগে-পরে চোটাক্রান্ত নেইমার জুনিয়র মাঠে নামলে পুরো মারকানা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে বরণ করে নেয় এ বরপুত্রকে। পুরোপুরি ফিট হয়ে না ওঠায় নেইমার যে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোয় খেলতে পারবেন না সেটি আগেই জানা গিয়েছিল। দেশ ছাড়ার আগে ঘরের মাঠের এ দুর্দান্ত জয় ব্রাজিলিয়ানদের মনে জড়াচ্ছে হেক্সার স্বপ্ন। আগামী রবিবার শেষ প্রীতি ম্যাচে মোহাম্মদ সালাহর মিসরের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল, এর পর ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের মূল বিশ্বকাপ অভিযান।
