বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এগিয়ে রাখতে পিসিবির ওয়ানডে টুর্নামেন্ট
অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড(পিসিবি)। এ লক্ষ্যে দেশটির ঘরোয়া মৌসুমে চারটি দলের অংশগ্রহণে বিশেষ একটি ওয়ান-ডে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে।
টুর্নামেন্টের অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ মৌসুমে অঞ্চলভিত্তিক দলের সংখ্যা ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২০ করা হবে। যেখানে শিয়ালকোট ও পেশোয়ার অঞ্চল অতিরিক্ত একটি করে দল গঠনের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে কায়েদ-এ-আজম ট্রফিকে গোল্ড ও সিলভার বিভাগে ভাগ করা হবে, যাতে ১৬টি অঞ্চলই প্রথম-শ্রেণীর এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে।
আগামী ১১ আগস্ট মুলতানে ‘ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপ’ দিয়ে ঘরোয়া মৌসুমের সূচনা হবে। এটি চারটি দলের অংশগ্রহণে এক সপ্তাহব্যাপী একটি ওয়ান-ডে টুর্নামেন্ট হবে। যা দেশটির ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের মান যাচাইয়ের জন্য বিশেষভবে এবারের সূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই টুর্নামেন্টের দলগুলো জাতীয় নির্বাচক কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত হবে।
ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপ হলো এই মৌসুমের দুটি ওয়ানডে প্রতিযোগিতার মধ্যে প্রথমটি। দ্বিতীয় টুর্নামেন্টটি হলো ‘প্রেসিডেন্টস কাপ’। যেখানে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বা বিভাগীয় দল অংশ নেয় নেবে। এটি প্রথম টুর্নামেন্টটি শেষ হওয়ার তিন দিন পর শুরু হবে।
২০২৩-২৪ মৌসুমের পর অঞ্চলভিত্তিক ওয়ানডে টুর্নামেন্ট ‘পাকিস্তান কাপ’ বাতিল করা হয়। ফলে গত দুই মৌসুমে পিসিবি মাত্র একটি ওয়ানডে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। এর আগে বিভাগীয় এবং আঞ্চলিক দলগুলোর জন্য আলাদাভাবে একটি করে ওয়ানডে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়।
পিসিবির ঘরোয়া ক্রিকেট কার্যক্রম বিভাগের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার ওসামা শারুন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দেশটির ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই ঘরোয়া ক্রিকেট কার্যক্রম বিভাগ মৌসুমের শুরুতে কৌশলগতভাবে দুটি ‘লিস্ট-এ’ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে। বিভিন্ন ঘরোয়া টুর্নামেন্টে জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় ও উদীয়মান অনেক তারকার অংশগ্রহণের ফলে সমর্থকরা নিশ্চিতভাবেই আসন্ন মৌসুমটি উপভোগ করার পাশাপাশি ক্রিকেটারদের দক্ষতারও ব্যাপক উন্নতি ঘটবে।
আঞ্চলিকভিত্তিক প্রতিযোগিতা প্রথম-শ্রেণির ‘কিউইএ ট্রফি’ এবং ‘ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপ’ এখন ২০টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। কারণ শিয়ালকোট ও পেশোয়ারকে দুটি করে দল মাঠে নামানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬টি অঞ্চলের মধ্যে লাহোর ও করাচির পাশাপাশি শিয়ালকোট ও পেশোয়ারও এখন দুটি করে দল নিয়ে খেলবে। বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলোতেও তারা দুটি করে দলই মাঠে নামাবে।
অন্যদিকে ১৬টি অঞ্চলের সবকটিই কিউইএ ট্রফিতে অংশ নেবে। টুর্নামেন্টটিকে দুটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। গোল্ড ও সিলভার। উভয় বিভাগই ১লা নভেম্বর থেকে একই সময়ে শুরু হবে। শীর্ষ আটটি দল গোল্ড বিভাগে খেলবে, আর শিয়ালকোট ও পেশোয়ারের দুটি নতুন দলসহ বাকি ১২টি দল সিলভার বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
গত কয়েকটি মৌসুমের মধ্যে কিউইএ ট্রফির কাঠামোতে এটি তৃতীয়বারের মতো পরিবর্তন। গত মৌসুমে টুর্নামেন্টটি ১০টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার আগে ২০২৪-২৫ মৌসুমে ১৬টি অঞ্চলের ১৮টি দলই এতে অংশ নিয়েছিল।২০২৩-২৪ মৌসুমে পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকের দলগুলো ‘হানিফ মোহাম্মদ ট্রফি’তে ছিল। যা একটি নন-ফার্স্ট-ক্লাস বা প্রথম-শ্রেণি বহির্ভূত তিন দিনের টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টটিও এখন বাতিল করা হয়েছে।
কিউইএ ট্রফি শুরুর আগে অনুষ্ঠিত হবে ‘প্রেসিডেন্টস ট্রফি’র প্রথম-শ্রেণির (আটটি দলের অংশগ্রহণে) এবং নন-ফার্স্ট-ক্লাস প্রতিযোগিতা ১২ই সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির বিভিন্ন ভেন্যুতে এগুলোও একই সময়ে চলবে। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপ’-এর মধ্য দিয়ে ঘরোয়া মৌসুমটি শেষ হবে। ১২টি দল নিয়ে গঠিত এর সিলভার বিভাগটি গোল্ড বিভাগের আগেই অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে গোল্ড বিভাগটি ২৩শে ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ই মার্চ পর্যন্ত চলবে।
