বিশ্বকাপের শেষ চার ম্যাচে নতুন বল, উন্মোচন করল অ্যাডিডাস

অনলাইন ডেস্ক

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নামতে আর বেশি সময় বাকি নেই। টুর্নামেন্ট এখন পৌঁছে গেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে। এই সময়টিকে আরও বিশেষ করে তুলতে সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনালের জন্য নতুন অফিসিয়াল ম্যাচ বল উন্মোচন করেছে ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। নতুন বলটির নাম ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’। বিশ্বকাপের শেষ চারটি ম্যাচেই ব্যবহার করা হবে এই বল।

গত বছরের অক্টোবরে উন্মোচিত ট্রিওন্ডা অফিসিয়াল ম্যাচ বলের উন্নত সংস্করণ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে ট্রিওন্ডা ফাইনাল। আগের বলের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও পারফরম্যান্স অপরিবর্তিত রাখা হলেও এর নকশায় আনা হয়েছে নতুন মাত্রা। বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর মর্যাদা তুলে ধরতেই আলাদা ডিজাইনের এই বল তৈরি করেছে অ্যাডিডাস।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম টুর্নামেন্টের শেষ চার ম্যাচের জন্য শুধু রঙ পরিবর্তন করে নতুন বল প্রকাশের প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি। ট্রিওন্ডা ফাইনালের নকশায় বিশ্বকাপ জয়ের প্রতীকী যাত্রাকে তুলে ধরা হয়েছে। কালো রঙের ভিত্তির ওপর সোনালি অলংকরণে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিচ্ছবি, যা বলটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র ও আকর্ষণীয় রূপ।

নকশার আরেকটি বিশেষ দিক হলো, এতে স্থান পেয়েছে এবারের বিশ্বকাপের ১৬টি স্বাগতিক শহর। সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনালের আয়োজক ডালাস, আটলান্টা, মায়ামি ও নিউ জার্সিকে প্রধানভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বোস্টন, গুয়াদালাহারা, হিউস্টন, কানসাস সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, মেক্সিকো সিটি, মনতেরে, ফিলাডেলফিয়া, সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া, সিয়াটল, টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারের নামও ত্রিভুজাকৃতির গ্রাফিক উপাদানের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিন স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজন এবং বিশ্বকাপের ভৌগোলিক বিস্তৃতিকে প্রতিফলিত করা হয়েছে।

নতুন বল উন্মোচন উপলক্ষে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকাপের শেষ চার ম্যাচের জন্য ট্রিওন্ডা ফাইনাল বল নিয়ে আসতে পেরে তারা আনন্দিত। তার ভাষ্য, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ট্রিওন্ডা প্রতিটি গোলের মুহূর্তে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে। নতুন এই বল কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র এই তিন স্বাগতিক দেশের ঐক্য এবং ফুটবলের প্রতি তাদের সম্মিলিত আবেগের প্রতীক হিসেবেও কাজ করবে।

ইনফান্তিনো আরও বলেন, বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের পায়ে থাকবে এই বল। প্রতিটি স্পর্শ, পাস, শট, সেভ ও গোলের সঙ্গে টুর্নামেন্টের ১৬টি স্বাগতিক শহরের অবদানও বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শুধু নকশাতেই নয়, প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ট্রিওন্ডা ফাইনালে যুক্ত হয়েছে আধুনিক সুবিধা। এতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাডিডাসের কানেক্টেড বল প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে বলের গতিবিধি ও বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। এই প্রযুক্তি ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করবে, অফসাইড বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে রেফারিদের সহায়ক হবে এবং ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা রোনালদোর জন্য সেমিফাইনালে ওঠাই ছিল বিশ্বমঞ্চে সেরা সাফল্য। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবল দাপিয়ে বেড়ানো রোনালদো বিশ্বকাপের ট্রফি না জিতলেও, দেশের ফুটবলে যে অমরত্ব অর্জন করেছেন, তা ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights