বিশ্বকাপে সেরাদের সঙ্গে আমরাও পাল্লা দিতে পারি : বসনিয়া কোচ
অনলাইন ডেস্ক
দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে জায়গা করে নেওয়া দলটি এবার আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে শোনাচ্ছে বড় স্বপ্নের কথা।
বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কোচ সের্গেই বারবারেজ এবং তারকা খেলোয়াড় এরমেদিন দেমিরোভিচ বিশ্বকাপে ফেরা, অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড এদিন জেকোর কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা এবং দলের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন।
কাগজে-কলমে বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার দৌড়ে ইতালিকেই এগিয়ে রাখা হয়েছিল। ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ফেরার স্বপ্ন দেখছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তারা বাছাইপর্বের প্লে-অফের সেমিফাইনালে উত্তর আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসীও ছিল। কিন্তু নিজেদের স্বপ্নপূরণে মরিয়া বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার দৃঢ়তা তাদের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেয়।
জেনিৎসায় অনুষ্ঠিত সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সমানতালে লড়াই হওয়া ম্যাচে দশজনের ইতালি শুরুতে এগিয়ে গেলেও ৭৯তম মিনিটে হারিস তাবাকোভিচের গোল ম্যাচে সমতা ফেরায়। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে জয়ী হয় স্বাগতিকরা। টাইব্রেকারে ইতালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো দেশ।
দেমিরোভিচ বলেন, “আমরা কী অনুভব করেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। ছোটবেলা থেকেই আমরা এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করেছি। আমাদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।”
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রথম বিশ্বকাপ ছিল ২০১৪ সালে ব্রাজিলে। সে সময় মিরালেম পিয়ানিচ, আসমির বেগোভিচ এবং এদিন জেকোর নেতৃত্বে সোনালি প্রজন্মের দলটি বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিল। দেমিরোভিচের জন্য জেকো শুধু একজন সতীর্থ নন, বরং দীর্ঘদিনের অনুপ্রেরণার উৎসও। বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার কৃতিত্বের অংশীদার হিসেবে জেকোর নামও উচ্চারণ করেছেন তিনি।
দেমিরোভিচ বলেন, “এই যোগ্যতা অর্জন জেকোর জন্যও। তিনি সব সময়ই আমার আদর্শ। তার সঙ্গে খেলা, তার কাছ থেকে শেখা এবং তার পথ অনুসরণ করার স্বপ্ন আমি সব সময় দেখেছি।”
অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, “তিনি আমাকে কখনও হাল না ছাড়তে শিখিয়েছেন। আমি ভুল করি কিংবা গোল করি সব সময়ই তিনি বলতেন এগিয়ে যেতে। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।”
বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়ার পর প্লে-অফের সেমিফাইনালে ওয়েলসকে টাইব্রেকারে হারায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। সেই ম্যাচেও শেষ মুহূর্তে সমতাসূচক গোল করেছিলেন জেকো। আর সেটিই খেলোয়াড়দের প্রতি বারবারেজের বিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।
এবার বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপে খেলবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ যৌথ আয়োজক কানাডা। এরপর তারা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও কাতারের।
বারবারেজ বলেন, “সবার আগে আমরা দেখাতে চাই আমরা কারা। আমাদের ফলাফলই আমাদের হয়ে কথা বলছে। আমরা প্রতিটি প্রতিপক্ষের জন্য জীবন কঠিন করে তুলব। আমরা প্রমাণ করতে চাই, সেরাদের সঙ্গে আমরাও পাল্লা দিতে পারি।”
এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়া দল। দেমিরোভিচ বলেন, “আমাদের দলে অনেক প্রতিভাবান তরুণ আছে, আবার অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও আছে। এই ভারসাম্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
