বিশ্বকাপ ঘিরে নিউ জার্সিতে হোটেল ভাড়া বেড়েছে কয়েক গুণ

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার আগেই আয়োজক শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম নিউ জার্সিতে শুরু হয়েছে ‘বিশ্বকাপ অর্থনীতি’। তবে প্রত্যাশিত দর্শক ঢল এখনো না নামলেও হোটেল ভাড়া, পার্কিং ফি এবং আবাসন খরচ ইতোমধ্যেই পৌঁছে গেছে রেকর্ড উচ্চতায়।

নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের আটটি ম্যাচ, যার মধ্যে রয়েছে ফাইনালও। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আশপাশের হোটেলগুলো কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে রুমভাড়া। স্টেডিয়ামের কাছে অবস্থিত ‘ওয়ার্ল্ড অব ব্লু’ হোটেল ফাইনালের রাতে শুধু পার্কিংয়ের জন্যই নিচ্ছে ৪৫০ ডলার। আর ওই রাতে একটি রুম ভাড়া নিতে গুনতে হবে প্রায় ২ হাজার ৩০০ ডলার, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি।

নিউইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়ার মাঝামাঝি গুদামঘর, মহাসড়ক আর জলাভূমি ঘেরা এই অঞ্চল সাধারণত পর্যটকদের প্রধান গন্তব্য নয়। বরং অনেকেই নিউইয়র্কে থাকার খরচ বাঁচাতে এখানে রাত কাটান। কিন্তু বিশ্বকাপকে ঘিরে স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরা বিপুল দর্শক সমাগমের আশা করে আগেভাগেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

তবে বাস্তবতা এখনো প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি। প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বিলাসবহুল রূপ পাওয়া ‘ওয়ার্ল্ড অব ব্লু’ হোটেলের গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলোর সময় রুম ভাড়ার হার মাত্র ৮ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এমনকি ফাইনালের জন্যও মাত্র ৪ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। পার্কিংয়ের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে মাত্র একটি জায়গা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দর্শক উপস্থিতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চ মূল্য, বিমান ভাড়ার ঊর্ধ্বগতি এবং স্বল্প খরচে আবাসনের অভাব। সব মিলিয়ে অনেক সমর্থক পরিকল্পনা বদলাচ্ছেন।

পরিস্থিতি এমন যে, চার লেনের সড়কের পাশে থাকা সাধারণ দুই তারকা মানের একটি মোটেলে ফাইনালের রাতে রুমভাড়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০০ ডলার। অন্যদিকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন হিসেবে পরিচিত একটি অ্যাপার্টমেন্ট হোটেলে সেই ভাড়া ৯০০ ডলারেরও বেশি। নিয়মিত ব্যবসায়িক সফরে আসা ক্রিস আন্দ্রাকা নামের একজন জানান, যে হোটেলে তিনি সাধারণত ৩০০ ডলার খরচে থাকেন, বিশ্বকাপের সময় সেই একই রুমের ভাড়া বেড়ে ৫ হাজার ৩০০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে তিনি ওই সপ্তাহে সফর বাতিল করেছেন।

স্টেডিয়ামের কাছাকাছি থাকার সুবিধাও খুব বেশি নয়। পার্কিংয়ের জন্য অর্থ খরচ করলেও দর্শকদের স্টেডিয়ামে যেতে হবে শাটল বাস বা ভাড়ার গাড়িতে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, স্টেডিয়ামসংলগ্ন সড়কে হেঁটে যাওয়া বিপজ্জনক এবং অনেক ক্ষেত্রে আইনত নিষিদ্ধ।

অনেক দর্শক তাই নিউ জার্সির পরিবর্তে নিউইয়র্কে থাকার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু সেখানেও এখনো প্রত্যাশিত বুকিং দেখা যাচ্ছে না। বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কোস্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ জুলাই ফাইনালের রাতের জন্য নিউইয়র্ক শহরের হোটেল রুম ভাড়া মাত্র ২৮ শতাংশ বুক হয়েছে, যা এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় কম। তবে আতিথেয়তা খাতের বিশ্লেষকদের আশা, টুর্নামেন্ট যত এগোবে এবং জনপ্রিয় দলগুলো নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করবে, ততই বাড়বে সমর্থকদের ভ্রমণ আগ্রহ এবং হোটেল বুকিং। আপাতত বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ম্যাচের ভেন্যুর আশপাশে দেখা যাচ্ছে এক অদ্ভুত চিত্র আকাশছোঁয়া দাম, কিন্তু প্রত্যাশিত ভিড়ের দেখা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights