বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক

ইরানকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় একদিনেই অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ৮৬.৭০ ডলারে পৌঁছেছে। এটি ২৪ জুলাইয়ের পর তেলের সর্বোচ্চ মূল্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে লক্ষ্য করে ব্যাপক অর্থনৈতিক পদক্ষেপের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করার পর তেলের দাম বেড়ে যায়।

ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ডাব্লিউটিআই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ২.৭৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল হয় ৮৬.৭০ ডলার।

এর পাশাপাশি লন্ডনের ব্রেন্ট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ২.২৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল হয় ৯৩.৬৮ ডলার। এক সপ্তাহে তেলের দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ।

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিধি-নিষেধগুলোর লক্ষ্য হলো ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা। এর আওতায় ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিপিং রেজিস্ট্রি, অর্থ স্থানান্তর এবং চোরাচালান নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরো জোরদার করতে চাইছে এবং সংঘাত, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনায় বসতে তেহরানকে চাপ দিতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে। তবে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে গেলেও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে এখনো পরিবাহিত হচ্ছে।

ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন করা হচ্ছে। এর এক দিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করে। এর আগে অভিযোগ ওঠে যে তেহরান তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়। ১৭ জুন ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এর মেয়াদ যে বাড়ানো হবে, তা নিয়ে উভয় পক্ষ সাময়িকভাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সেই মেয়াদ আর বাড়ছে না।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পর ইরান জানায়, তারা ‘পূর্ণ আক্রমণাত্মক’ সামরিক অবস্থানে চলে যাবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে রাজি হয়নি। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights