বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ডাকযোগে চিঠি পরিষেবার সমাপ্তি ঘটাল ডেনমার্ক
অনলাইন ডেস্ক
ইন্টারনেটের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে দিতে থেমে গেল কাগুজে আবেগ। ইমেল, মেসেজ, হোয়াট্সঅ্যাপের যুগে তারা প্রবীণ নাগরিক। শেষমেশ কঠিন সিদ্ধান্তটা নিয়েই নিল ডেনমার্ক। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ডাকযোগে চিঠি পাঠানোর পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিল দেশটি। ২০২৫ সালের শেষেই শেষ চিঠি পৌঁছে দিয়েছে ইউরোপীয় দেশটি।
ডেনমার্কের প্রাচীনতম সরকারি পরিষেবাগুলোর মধ্যে একটি ছিল ডাকযোগে চিঠি পাঠানোর ব্যবস্থা। ১৬২৪ সালে চালু হয় এই ব্যবস্থা।
মঙ্গলবার ডেনমার্কের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পোস্টনর্ড জানিয়ে দিয়েছে, ৪০১ বছর পর চিঠি বিতরণ বন্ধ করল তারা। কারণ, ডেনমার্কের জনগণ ডিজিটাল যোগাযোগের ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে যে, ডাকব্যবস্থার আর প্রয়োজন নেই। অতএব বিদায়।
দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবারই শেষ চিঠি পাঠিয়ে ডাকব্যবস্থার ইতি ঘটিয়েছে ডেনমার্ক। পোস্টনর্ড একটি বিবৃতিতে বলেছে, টুকটাক পার্সেল ডেলিভারি ছাড়া ডাকব্যবস্থার ওপর আর নির্ভরশীল নন নাগরিকেরা। তারা আর প্রিয়জনকে চিঠি লেখেন না। অফিস-আদালতের চিঠিপত্রও এখন একান্তভাবে ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং শুধু শুধু একটি সরকারি পরিষেবা চালু রাখার কোনও যুক্তি নেই। কঠিন সিদ্ধান্ত। কিন্তু সময়ের দাবি।
এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন পোস্টনর্ডের প্রধান নির্বাহী কিম পেডারসেন। তার কথায়, ‘‘একটি অধ্যায় শেষ হল। আর একটি অধ্যায় শুরু হবে।’’ অর্থাৎ, চিঠি বিতরণ বাদ দিয়ে পার্সেল পাঠানোর ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। কিম বলেন,‘‘আমরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চিঠি বিতরণ করেছি। সেটা বন্ধ হল। ডেনমার্কের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ই-কমার্স। যেখানে পার্সেলের সংখ্যা এখন চিঠির চেয়ে অনেক অনেক বেশি। ’’
ডেনমার্কের সরকারি মহল জানিয়েছে, ডিজিটালাইজেশনের যুগে ক্রমশ বদলে যাচ্ছে দুনিয়া। ডিজিটাল মেইলবক্স, মোবাইল পেমেন্ট এবং অন্যান্য অনলাইন পরিষেবা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। আরও নতুন নতুন পরিষেবা আসছে। সেখানে খাম, স্ট্যাম্প নিতান্তই পুরনো ব্যবস্থা। গত ২৫ বছরের মধ্যে ডেনমার্কে চিঠির পরিমাণ ৯০ শতাংশ কমে গেছে। ২০০০ সালের পর থেকে লোকজন চিঠি লেখা এবং পাঠানো কমিয়ে দিচ্ছিলেন। গত কয়েক বছর ধরে আর্থিক লোকসান হচ্ছিল পোস্টনর্ডের। সূত্র: এবিসি নিউজ, দ্য গার্ডিয়ান
