‘বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেদ করেছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র’

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেকারচি জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রথম রাতেই শীর্ষ সেনা কমান্ডাররা নিহত হওয়ার পরেও ইরানের এয়ারোস্পেস ফোর্স পশ্চিমা বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে গভীরভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

কোমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অপারেশনের প্রথম রাতেই কমান্ডের প্রথম স্তর শহীদ হলেও নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির দূরদর্শিতা ও সেনাবাহিনীর দ্রুত পুনর্গঠনের ফলে আইআরজিসি’র এয়ারোস্পেস ফোর্স বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হয়।

তিনি আরও জানান, ইরানের ১২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ হামলার পথে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের তৈরি শত শত ফাইটার জেট, উন্নত রাডার এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন ছিল, তবুও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এই প্রতিরক্ষা ছেদ করে উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত দখলকৃত অঞ্চলগুলোতে আঘাত হানে।

জেনারেল শেকারচি বলেন, সিনিয়র কমান্ডারদের হত্যার মাধ্যমে ইরানের অবকাঠামো ধ্বংস করে দেশটিকে টুকরো টুকরো করে ফেলার ষড়যন্ত্র করেছিল ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের পশ্চিমা মিত্ররা। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টোটা ঘটেছে।

তিনি জানান, সপ্তম দিনে যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের চাপে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি যুদ্ধে নামাতে বাধ্য করে। এরপরও সামরিকভাবে তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি।

জেনারেল শেকারচি বলেন, শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমাদের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে যুদ্ধের ভারসাম্য ইরানের পক্ষে চলে আসে।

তিনি আরও বলেন, গত ৭০ বছরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কখনও আশ্রয়কেন্দ্রে পালিয়ে যায়নি। কিন্তু এই যুদ্ধে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে পালিয়ে যেতে হয়েছে। পুরো দখলকৃত অঞ্চল উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত ইরানের হামলার শিকার হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক মিডিয়া এই বাস্তবতাগুলো গোপন রাখার চেষ্টা করছে।

জেনারেল শেকারচি বলেন, ইসরায়েল গত ১৩ জুন ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও আবাসিক এলাকাগুলিতে হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র ২২ জুন নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইসফাহানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।

এর জবাবে ইরানের আইআরজিসি এয়ারোস্পেস ফোর্স ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস থ্রি’-এর আওতায় ২২ ধাপের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ইসরায়েলের অঞ্চলের অনেক শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।

এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি আল-উদেইদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

সূত্র: মেহের নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights