বুলবুলকে ডেকেছে তদন্ত কমিটি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচিত কমিটি টিকবে না বিলুপ্ত হবে? এ প্রশ্ন এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া বোর্ডের নির্বাচন ঘিরে অভিযোগের শেষ নেই। অনেকের মতে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে অনিয়মে ভরা এমন নির্বাচন কখনো হয়নি। ওই সময়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপে নোংরামীতে ভরা এ নির্বাচন হয়। এমন অভিযোগ অনেক সংগঠকেরই। ক্রীড়া উপদেষ্টা নাকি তার পছন্দের লোকদের বোর্ডে বসান। অস্বচ্ছতার অভিযোগ এলে বেশ কয়েক জন নির্বাচন বয়কটও করেন। আমিনুল হক যখন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ছিলেন না, তখন তিনি বিসিবির নির্বাচনকে প্রহসন বলেই মন্তব্য করেছিলেন।

বিএনপি সরকার গঠনের পর আমিনুল হন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই বিসিবির নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক গঠিত এ তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে। কমিটি তদন্তের স্বার্থেই বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সভাপতি দেশে ফিরে এলেই তাকে তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে হবে। শুধু বুলবুল নন, বোর্ডের সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ, পরিচালক ফাইয়াজুর রহমান মিতু ও শানিয়ান তামিমকেও ডেকেছে তদন্ত কমিটি। পরিচালনা পর্ষদের বাইরে থাকা সাবেক সহসভাপতি মাহাবুবুল আনাম ও কাউন্সিলর ইমরোজ আহমেদকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে তদন্তের মুখোমুখি হতে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্য সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেইন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির প্রধান মো. সিবগাত উল্লাহ ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক দৌলতুজামান খানকে সাক্ষাৎকার দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠনের পরই ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। সুতরাং কমিটির হাতে সময়ও নেই। টি-২০ বিশ্বকাপ কেন বাংলাদেশ খেলল না তার প্রকৃত ঘটনা বের করতেও তদন্ত করার কথা বলেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। বিসিবির ওপর বড় ঝড় যে নেমে আসছে, এ নিয়ে সন্দেহ নেই। তার পর আবার বিদেশে বসেই তদন্ত কমিটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বুলবুল। দেশে ফিরলে বিসিবি সভাপতিকেই বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে। তদন্ত কমিটি থেকে কী বের হয়ে আসবে বলা মুশকিল। তবে বিসিবির নির্বাচন নিয়ে যে অনিয়ম হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। এর পেছনে কে বড় ভূমিকা রেখেছেন তাও অজানা নয়। কথা হচ্ছে অনিয়মের প্রমাণ পেলে বোর্ড কি ভাঙা হবে? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের এক পরিচালক বলেন, ‘নির্বাচিত কমিটি ভাঙতে হলে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তাদের অভিযোগের সত্যতা দেখাতে হবে। হুট করে বোর্ড ভাঙলে বাংলাদেশের ক্রিকেট জটিলতার মধ্যে পড়বে।’ অবশ্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও বলেছেন, যা করা হবে আইসিসির পরামর্শে। কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights