বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ভাসছে লক্ষ্মীপুরের নিম্নাঞ্চল
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরে টানা ৩ দিনের বৃষ্টি ও মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে প্রায় ২ হাজার হেক্টর আমন ধান ও শাক-সবজির ক্ষেত এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একইসঙ্গে জেলার কমলনগর ও রামগতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫০টি কাঁচা ঘরবাড়ী বিধ্বস্ত ও ২৫টি গ্রামীণ পাঁকা- কাঁচা সড়ক এবং শতাধিক গাছপালা ভেঙ্গে গেছে। এখন জনপদে ঢুকেছে পানি। এতে করে জলাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মানুষ।
জানা যায়, টানা ৩ দিনের বৃষ্টি ও মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে রামগতি ও কমলনগরের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এ জনপদের ৩২ কিলোমিটার উপকূলে বেঁড়িবাধ না থাকায় জোয়ারে আশপাশের বাসিন্দাদের বাড়ি-ঘর ডুবে যায়। নদী তীরবর্তী ইউনিয়নগুলোর বাসিন্দাদের ক্ষয়ক্ষতি বেশি। ইতোমধ্যে এসব এলাকার ২৫টি গ্রামীণ পাঁকা ও কাঁচা সড়ক ভেঙ্গে গেছে। এসময় এ দু’উপজেলার অন্তত ৫০টি বসতঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকার নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পৌর বাসিন্দারা পড়েছেন বিপাকে।
শহরের কলেজ রোড, শেখ রাসেল সড়কসহ বেশ কয়েকটি সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করেন পৌর নাগরিকরা। তারা বলছেন অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণের কারণে এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। এছাড়া অতিবৃষ্টিতে পিটিআই এর সামনে একটি বড় গাছ রাস্তার উপর হেলে থাকলেও তা অপসারণে কেউ এগিয়ে আসেনি। এতে করে চরম ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী সাধারণসহ শিক্ষার্থীদের পারাপার হতে দেখা গেছে। যে কোন মূহুর্তে বড় ধরণের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমলনগরে ৭-৮টি গ্রামীণ রাস্তা ভেঙ্গে গেছে। এরমধ্যে চর কালকিনি ইউনিয়নের নাসিরগঞ্জ এলাকার একটি রাস্তা ভেঙ্গে জনপদে পানি ঢুকেছে। এতে ১৫-২০টি বসতঘর বিধ্বস্ত হয়।
রামগতির চর রমিজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজাহিদুল ইসলাম দিদার বলেন, জোয়ারের কারণে ২ টি পাকা ও ৪টি কাচা রাস্তা ভেঙ্গে গেছে। ৩দিন ধরে মানুষ দুপুর এবং রাতে চুলাতে আগুন দিতে পারে না। অনেকের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে কষ্টের শেষ নেই। একই অবস্থা মেঘনা উপকূলের চর লরেঞ্জ ও সদরের চর রমনী মোহনসহ অন্তত ১০টি গ্রামে।
রামগতি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হযরত আলী বলেন, রামগতিতে বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারে ১ হাজার ৫৮০ হেক্টরের রোপা আমন ও ২৪৭ হেক্টর জমির বীজতলার আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া ১০৫ হেক্টর জমির শাকসবজি পানিতে ডুবে আছে। পানি সরলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ৮১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ইতোমধ্যে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। খরার কারণে কৃষকরা পুরোদমে আবাদ করতে পারেননি। এ মাসজুড়ে তারা আবাদ করবেন। জোয়ারের পানিতে ১ হাজার হেক্টর জমির আমন ও ৬০ হেক্টর জমির সবজি তলিয়ে রয়েছে। তবে বেসরকারি এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ২ হাজার হেক্টর আমন ও শাক-সবজির ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমান নির্ণয়সহ ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরী করা হবে। ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য আমনের চারা রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুরাইয়া জাহান বলেন, জোয়ারে গ্রামীণ সড়ক ও ঘরবাড়ি ক্ষতির বিষয়ে ইউএনওরা কাজ করছেন। প্লাবিত হওয়া এলাকার দুইটি আশ্রয় কেন্দ্রে শুকনো খাবার দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির যে তালিকা পাওয়া গেছে, তা ঢাকায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
