বৃহস্পতি থাকে যেন তুঙ্গে

তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না কেন? তিনি কি দেশে ফিরতে পারছেন না? তিনি কি কখনোই দেশে আসবেন না? ৫ আগস্টের পর দেশে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ ছিল, সে সময় দেশে ফিরলে আজ তিনিই হতেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু, তার পরও তিনি কেন ফিরলেন না? মা বেগম খালেদা জিয়ার আশঙ্কাজনক শারীরিক অবস্থায়ও তিনি কেন ফিরছেন না? সরকার বা সেনাবাহিনী কি তাঁর দেশে ফেরার পথে বাধা? বিদেশি কোনো বাধার কারণে কি তিনি দেশে আসতে পারছেন না? তাঁর তো পাসপোর্ট নেই, তাহলে তিনি কীভাবে দেশে ফিরবেন? তিনি কি ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী, তাঁকে কি ওই পাসপোর্ট সারেন্ডার করে দেশে ফিরতে হবে? তিনি কি ভোটার হতে পারবেন-ইত্যাদি প্রশ্ন ছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে। সারা দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এ প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছিল। সব প্রশ্নের ‘উত্তর’ হয়ে তিনি আজ দেশে ফিরছেন। এক বৃহস্পতিবারে তিনি নির্বাসনে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। প্রায় দেড় যুগ পর আরেক বৃহস্পতিবারে গর্ভধারিণী মা বেগম খালেদা জিয়া, প্রিয় বাংলাদেশ এবং প্রিয় দেশবাসীর কাছে তিনি ফিরছেন। এভারকেয়ারে অসুস্থ মায়ের বুকে মাথা রেখে তিনি আজ পরম শান্তি খুঁজবেন। মায়ের স্নেহের উষ্ণতা নেবেন প্রাণ ভরে। এ সময় তাঁর চোখে আনন্দ-বেদনার বন্যা বয়ে যাবে। বুকের ভিতর ঝড় বয়ে যাবে। পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষিত স্বাধীন দেশে তিনি ফিরছেন প্রায় ১৮ বছর পর। পিতার রক্তের যোগ্য উত্তরাধিকার হিসেবে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে তাঁর ঘোষণা হলো, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। সেই প্রিয় বাংলাদেশের মাটি আজ তিনি গভীর ভালোবাসায় স্পর্শ করবেন। প্রাণপ্রিয় দেশবাসী, যারা তাঁকে আদরে, ভালোবাসায়, শ্রদ্ধায় সাদরে বরণ করার জন্য এত বছর অপেক্ষা করেছেন, তাদের সেই ভালোবাসা তিনি মাথা পেতে নেবেন। আজ দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি হয়তো আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলবেন, ‘হে আমার প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ, প্রিয় দেশবাসী, আমি সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমান। প্রিয় দেশবাসী, আমি আপনাদের ভালোবাসার যথাযথ মূল্য দেব। প্রেসিডেন্ট জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার মতো আমিও আপনাদের ভালোবাসায়, আপনাদের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই। কারণ আমি আপনাদেরই লোক। প্রিয় দেশবাসী, আমি আপনাদের সেবক হিসেবে আপনাদেরই সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই।’ তবে তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সুখকর সময়ে হচ্ছে না। এক ক্রান্তিকালে তিনি দেশে ফিরছেন। তাঁকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার নির্বাসনে যাওয়ার ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর আবার ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার প্রত্যাবর্তনে তারেক রহমানের বৃহস্পতি যেন তুঙ্গে থাকে সেটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা
বৃহস্পতি থাকে যেন তুঙ্গেপাঁচ বছরের পিনুর খেলার সাথি তাঁর একমাত্র ছোট ভাই, দুই বছরের কোকো। মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে গৃহবন্দি। সে জানে না তার কী অপরাধ। শুধু জানে, তার পিতা মেজর জিয়াউর রহমান যুদ্ধে গেছেন। যুদ্ধ কী তা-ও জানে না শিশু পিনু। ৯ মাস বন্দি থাকার পর মুক্ত বাংলাদেশে পিতা মেজর জিয়া ফিরে এলেন। ঘরের আনন্দ ফিরে এলো। আব্বা-আম্মার সঙ্গে দুই শিশুর আনন্দের সংসার। কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া পিতাকে প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকতে হয় সদ্য স্বাধীন দেশ মেরামতের কাজে। তারপর মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৮১ সালের ৩০ মে পিতাকে হারালেন। বিধবা মা, ছোট ভাই কোকোর সঙ্গে দিশাহারা কিশোর পিনু। পিতার গড়া দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির লাখো নেতা-কর্মী-সমর্থকের ভালোবাসায়, দেশ গড়ার প্রত্যয়ে মা বেগম খালেদা জিয়াকে নামতে হলো রাজনীতিতে। শুরু হলো মায়ের নতুন জীবন। এরশাদবিরোধী আপসহীন আন্দোলনে বিজয়ী হলেন গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে আসা বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হলো বিএনপি। তারপর শুরু দেশ গড়ার কাজে বেগম খালেদা জিয়ার অবিরাম লড়াই। সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হলেন। সব ক্ষেত্রে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিলেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে দেশকে, নিজেকে, পরিবারকে এবং সর্বোপরি নিজের দল বিএনপিকে রক্ষা করতে পারলেন না। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ও সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের সরাসরি হস্তক্ষেপে গঠিত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ক্ষমতা গ্রহণের দেড় মাসের মাথায় ২ শতাধিক রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। জিয়া পরিবার ও জাতীয়তাবাদী শক্তি ধ্বংস করতে শুরু হয় দেশিবিদেশি নতুন ষড়যন্ত্র। নানান মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতিশ্রুতিশীল রাজনীতিবিদ ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমানকে। ঢাকা সেনানিবাসের ভিতরে মইনুল রোডের বাড়ি থেকে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয় তারেক রহমানকে। গ্রেপ্তারের পর র‌্যাবের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হেলমেট পরিয়ে ঢাকার আদালতে তাঁকে উপস্থাপন করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ১০ দিনের রিমান্ডে তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। ২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর রিমান্ড থেকে আবার আদালতে উপস্থাপন করা হলে তিনি আদালতকে বলেছিলেন, ‘রিমান্ডের সময় আমাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই হাত ও চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল… আমাকে বেঁধে রুমের ছাদের সঙ্গে ঝুলিয়ে আবার ফেলে দেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। আমি একজন রাজনীতিবিদ, কোনো সন্ত্রাসী নই। আদালত আমার চিকিৎসার নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি। এবার রিমান্ডে নিলে আমি আর বাঁচব না। শারীরিকভাবে এতটাই নির্যাতনের শিকার হয়েছি যে এখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতেও পারছি না। চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আমাকে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা মোটা কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে নির্জন স্থানে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে।’ তাঁর ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের কথা সে সময় কোনো গণমাধ্যম প্রকাশ করতে পারেনি। আদালতে সেদিন মেডিকেল রিপোর্টে তারেক রহমানের শারীরিক অবস্থার ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরা হয়। আদালতে চিকিৎসকদের দেওয়া মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়, নির্যাতনের ফলে তাঁর মেরুদণ্ডের ৬ ও ৭ নম্বর হাড় ভেঙে গেছে এবং আরও কয়েকটি হাড় বাঁকা হয়ে গেছে। মেরুদণ্ডের ৩৩টি হাড়ের মাঝে দূরত্ব কমে গেছে। চিকিৎসকরা বিশেষায়িত অর্থোপেডিক চিকিৎসার সুপারিশ করেন। এই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁর রিমান্ডের সময়সীমা কমিয়ে এক দিন করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় সাবধানতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন। আঠারো মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় পিজি হাসপাতালের ৪৩২ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এরই মধ্যে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোকে। গ্রেপ্তারের পর একই সঙ্গে তাঁদের ঢাকার আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালত বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোকোর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে অসুস্থ কোকোকেও নির্যাতন করা হয়। ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানার এক মামলায় তারেক রহমানের সঙ্গে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়। নানান ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি পান বেগম খালেদা জিয়া। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি প্রথমে যান চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে। সেখান থেকে যান পুত্র তারেক রহমানের কাছে। এরপর ওই দিনই তারেক রহমান লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে জিয়া পরিবারের ওপর নির্যাতনের ইতিহাস ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশে দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর তিনি আজ ফিরছেন।

অনেক চ্যালেঞ্জ, অনেক ঝুঁকি এবং অনেক প্রত্যাশা নিয়ে তিনি শুরু করবেন নতুন পথের যাত্রা। তাঁর সামনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা মোকাবিলা করা। তিনি অবশ্য অনেক আগে থেকেই বলছেন যে নির্বাচন ঘিরে অনেক ষড়যন্ত্র হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ তিনি জানেন, জিয়া পরিবার ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র ২০০৭-এর ওয়ান-ইলেভেনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে, যা এখনো চলছে। নির্বাচনের আগে অনেক জোট, অনেক দল নানান দিকে ঘোরাফেরা করছে। বিশেষ করে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক জোট এবারের নির্বাচনে অন্যতম প্রতিপক্ষ। সে কারণে এদিকে লক্ষ্য রেখে নির্বাচনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। নির্বাচন সামনে রেখে আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো সমাজ মাধ্যমে অপপ্রচারকারী সংঘবদ্ধ ‘বটবাহিনী’র মোকাবিলা করা। মনোনয়নবঞ্চিত নেতা-কর্মীরাও সাময়িক লোভের কারণে অথবা অন্য কোনো দলের স্বার্থে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে প্রার্থী হলে দলের অনেক বড় ক্ষতি হবে। এটা মোকাবিলা করাও তাঁর জন্য নতুন একটি চ্যালেঞ্জ। দেশে আইনশৃঙ্খলার অবস্থা খুবই নাজুক। কারও কোনো নিরাপত্তা নেই। সে কারণে সরকারের ওপর নির্ভর না করে দক্ষ, বিশ্বস্ত দলীয় নিরাপত্তাকর্মী তৈরি করা খুবই জরুরি। তারেক রহমানের ব্যক্তি নিরাপত্তার বিষয়টি দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীর এক নম্বর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

আগামী নির্বাচন বিএনপি তথা জাতীয়তাবাদী শক্তির অস্তিত্বের লড়াই। এ লড়াইয়ে জিততে হবে। দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে সব ভেদাভেদ ভুলে হাতে হাত রেখে নির্বাচনে বিজয়ী হতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, কোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মীর কোনো রকম অপকর্ম যেন দলকে কলঙ্কিত না করে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ট্রেনে বিএনপি উঠতে না পারলে পরের ট্রেন ধরা অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। নির্বাচনের মাঠে কোনো প্রতিপক্ষকেই ছোট করে দেখা ঠিক হবে না। প্রতিযোগিতার মাঠে সবাই বিজয়ী হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই নামে। দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে মনে রাখতে হবে, তারেক রহমান শুধু বিএনপির নেতা নন। তিনি এখন দেশের সবার প্রিয় মানুষ। দলের নেতা-কর্মীদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান হয়ে উঠবেন সবার নেতা। দেশবাসীর প্রত্যাশা হলো, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো তারেক রহমানও হবেন সব দলের, সব মত ও পথের মানুষের প্রিয় নেতা। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ মন্ত্রে তিনি গড়ে তুলবেন প্রিয় মাতৃভূমিকে। আজকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে শুরু হোক তাঁর দেশ গড়ার নতুন অভিযাত্রা। বৃহস্পতিবার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের বৃহস্পতি যেন তুঙ্গে থাকে, সেটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন

manju209@yahoo.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights